Tuesday, August 16, 2022

ত্বক ফর্সা হবে সরিষার তেল ব্যবহারে

স্বাস্থ্য, ত্বক ও চুল সব ক্ষেত্রেই সরিষার
তেল অসামান্য কাজ করে। নিয়মিত রান্নায় এই তেলের ব্যবহার অত্যন্ত
স্বাস্থ্যসম্মত। ঠিক তেমনি রুপচর্চায় এর কার্যকারিতাও বহুল। ত্বক ও চুলের
যত্নে এই তেল প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এবার তবে জেনে নিন সরিষার
তেল ত্বকের যত্নে কতটা উপকারী-


১. ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে প্রতি রাতে
সরিষা ও নারকেল তেল মিশিয়ে দশ মিনিট ত্বকে ম্যাসাজ করুন। তারপর ভালো করে
মুখ ধুয়ে ঘুমাতে গেলে ত্বক হবে নরম ও উজ্জ্বল।









২. ত্বকের রোদে পোড়া দাগ ঠেকাতেও সরিষার
তেলের জুড়ি মেলা ভার। এজন্য বেসন, দই ও লেবুর রসের সঙ্গে সরিষার তেল মিশিয়ে
মুখে ও ঘাড়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ব্যবহার করুন। এরপর ঠাণ্ডা পানিতে মুখ
ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।


৩. এই তেলে রয়েছে ভিটামিন এ, ই এবং বি কমপ্লেক্স। নিয়মিত সরিষার তেল ব্যবহারে ত্বকে বার্ধ্যক্যের ছাপ পড়ে না। 


৪. সানস্ক্রিন না থাকলেও সমস্যা নেই। এর
পরিবর্তে সামান্য সরিষার তেল ব্যবহার করুন। সূর্যের ক্ষতিকারক
আলট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বককে বাঁচাবে। 


৫. এছাড়াও সরিষার তেলে রয়েছে অ্যান্টি
ব্যাকটিরিয়াল ও অ্যান্টি ফাঙ্গাল উপাদানে ভরপুর। তাই অ্যালার্জি, র‌্যাশ,
চুলকানি ও শুষ্ক ত্বকের জন্য এটি খুবই ভালো একটি উপাদান।




ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস



সয়াবিন তেল নাকি সরিষার তেল কোনটি ভালো

 আমাদের দেশে রান্নার কাজে এক সময় সরিষার তেল সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হতো।
এখন সেই স্থান দখল করে নিয়েছে সয়াবিন তেল। এর বাইরে সূর্যমুখী তেল বা অলিভ
অয়েলের ব্যবহার রয়েছে। কিন্তু এগুলো উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের
নাগালের বাইরে।


অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে- কোন তেল ব্যবহারে উপকার বেশি বা পুষ্টি
বেশি পাওয়া যায়? এ বিষয়ে জানতে ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও
হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন বিভাগের চীফ কনসালটেন্ট, পুষ্টিবিদ
সামিরা খালেক সুকৃতির সঙ্গে কথা হয় রাইজিংবিডির। 

ডা. সামিরা বলেন, ‘আমাদের দেশে যত ধরনের ভোজ্যতেল ব্যবহার হয় তার মধ্যে
সবচেয়ে ভালো সরিষার তেল। সয়াবিন তেলে অনেক সময় অসাধু ব্যবসায়ীরা পাম অয়েলসহ
বিভিন্ন কিছু মেশায়। অধিক মুনাফার জন্য তারা এ কাজ করে। কিন্তু সরিষার
তেলে সে সুযোগ নেই। কারণ সরিষার তেলে এমন কিছু মেশালে ভালোভাবে মিক্সড হয়
না। এ কারণে সরিষার তেল তুলনামূলক ভালো। সানফ্লাওয়ার অয়েলের সঙ্গেও অন্য
তেল মেশানো যায়।’


ক্যাস্টর অয়েল নিয়মিত খাওয়ার জন্য উপকারী নয় উল্লেখ করে এই পুষ্টিবিদ
বলেন, রান্নায় নিয়মিত ব্যবহারের জন্য সানফ্লাওয়ার অয়েল ভালো, যদি সেটি
খাঁটি হয়।  


ক্যালরির বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. সামিরা বলেন, ‘ক্যালরির দিক থেকে
মোটামুটি সব তেল প্রায় সমান। তেল যেহেতু ফ্যাটের অধীন, এক গ্রাম ফ্যাট থেকে
৯ ক্যালরি পাওয়া যায়। ফলে তেলের ক্ষেত্রে ক্যালরির ডিসটেন্স কিন্তু বেশি
হচ্ছে না। আমাদের দেহে দুই ধরনের ফ্যাট রয়েছে- স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও
আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট। এখন সয়াবিন তেলের চেয়ে সরিষার তেল তুলনামূলক ভালো,
অলিভ অয়েল আরো ভালো। কিন্তু তেল ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। অনেকে মনে করেন,
অলিভ অয়েল দিয়ে রান্না করলে বেশি পুষ্টি হবে। কিন্তু যখন আপনি অলিভ অয়েল
বেশি তাপে রান্না করবেন গুণগত মান নষ্ট হবে। অলিভ অয়েল দিয়ে আপনি হালকা ডিম
ভাজতে পারেন কিন্তু খুব বেশি তাপে রান্না করলে কাঙ্ক্ষিত পুষ্টিগুণ পাবেন
না।’







আমাদের দেশে তেল-মসলা বেশি খাওয়া হয়। এ জন্য সয়াবিন তেল ব্যবহার করা হয়।
চাইলে সরিষাবাটা তেল দিয়েও রান্না করা যায়। সরিষার তেল সয়াবিন তেলের চেয়ে
বরং পরিমাণে কম লাগে। এতে শরীরে ক্যালরি বাড়ার আশঙ্কাও কমে যায়। জানান এই
পুষ্টিবিদ। 


সরিষার তেলের ১৩টি উপকারিতা যা অনেকেরই অজানা

বাজারে সয়াবিন তেলের আবির্ভাবের পর আমরা অনেকেই সরিষার তেলের উপকারিতার
কথা ভুলে গেছি। অথচ এক সময় সরিষার তেলই ছিল আমাদের রান্নার প্রধান উপকরণ।
এখনও সরিষা বা সরিষার তেল প্রতিটি বাড়ির রান্না ঘরেই রয়েছে যা – রান্নায়,
ভর্তা বানাতে এমনকি মালিশের কাজেও ব্যবহৃত হয়। ভারতীয় উপমহাদেশে এই তেলের
ব্যবহার অতি প্রাচীন। ৩০০০ খৃষ্টপূর্ব আগে থেকে ভারতে চিকিৎসা শাস্ত্রে
সরিষার তেল ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সরিষা দানা পিষে সরিষার তেল তৈরি করা হয়। এর
রঙ ঘন লালচে হলুদ এবং এর গন্ধ ঝাঁঝালো।


খাঁটি ঘানি ভাঙ্গা সরিষার তেল স্বাস্থ্য উপকারি। সরিষার তেল অনেক বছর
ধরেই খারাপ তেলের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল কিন্তু এখন এটা অনেকেই ব্যবহার
করছেন। এমনকি নিউ ইয়র্কের খুব জনপ্রিয় কিছু রেস্টুরেন্টের শেফ এই তেল ব্যবহার করছেন।


সরিষার তেলে কি আছে?


সরিষার তেল মনো আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট (Monounsaturated fat) এবং প্রদাহ
বিরোধী (anti-inflammatory) উপাদানে সমৃদ্ধ। এছাড়াও সরিষার তেল মনো
আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট (Monounsaturated fat) ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটি
এসিড, এন্টি অক্সিডেন্ট এবং বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থে ভরপুর। এতে খুব
অল্প পরিমানে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা সম্পৃক্ত চর্বি রয়েছে।


১০০ গ্রাম সরিষার তেলে আছেঃ


স্যাচুরেটেড ফ্যাট                  ১২ গ্রাম


পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট    ২১ গ্রাম


মনো আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট   ৫৯ গ্রাম


কিভাবে এই তেল তৈরি হয়?


এই তেল ২ উপায়ে তৈরি হয়


১। কাচ্চি ঘানি (Cold pressed)


এই প্রক্রিয়ায় সরিষার দানা সরাসরি পিষে এ থেকে তেল বের করা হয় এই তেল হয়
খুব ঘন এবং ঝাঁঝযুক্ত। এই তেল সবচেয়ে বেশী স্বাস্থ্য উপকারী। এটা হজম
শক্তি বাড়ায়, হৃদপিন্ড ভাল রাখে, চুল গজানোয় সাহায্য করে এবং শরীরের মাংশ
শক্ত হয়ে যাওয়া (muscle stiffness) রোধ করে।

২। এসেনশিয়াল অয়েল (Mustard Essential oil)


এই পদ্ধতিতে পেষা সরিষার দানার সাথে পানি, ভিনেগার অথবা অন্য কোন তরল
মিশিয়ে বানানো হয়। এই তেল হয় অনেক পাতলা। সরিষার দানায় মাইরোসিনেইস
(Myrosinase) এবং সিনিগ্রিন (Sinigrin) নামে দ’টি উপাদান আছে। পানিতে
ভিজিয়ে রাখার ফলে এই দু’টি উপাদান বিষাক্ত কম্পাউন্ড সৃষ্টি করে। তাই এই
ধরণের তেল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।



সরিষার তেলের ১৩টি উপকারিতা


১। হজম প্রক্রিয়া


সরিষার তেল হজম প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে এবং মেটাবলিক রেট বৃদ্ধি করে।

২। সরিষার তেল ব্যথা কমায়


সরিষার তেলে থাকা প্রদাহ বিরোধী (Anti-inflammatory) উপাদান ব্যথা কমাতে
সাহায্য করে। হাঁটুর ব্যথা, অন্যান্য জয়েন্টের ব্যথা, আর্থ্রাইটিস (বাত)
এবং রিউম্যাটিক এর ব্যথাও দূর করে।


৩। ক্যান্সার রোধ


এই তেলে থাকা গ্লুকোসিনোলেট (Glucosinolate) নামক উপাদান মলাশয় ক্যান্সার এবং অন্ত্রের ক্যান্সার রোধে সাহায্য করে।


৪। সরিষার তেল ফুসফুস পরিষ্কার রাখে


সরিষার তেল এক ধরণের ডিকঞ্জেস্টেন্ট বা শ্বাসতন্ত্র পরিষ্কারক। এই তেলের সাথে রসুন মিশিয়ে বুকে ও পিঠে লাগালে কফজনিত সমস্যার সমাধান হয়।


এই মুহূর্তের ট্রেন্ডিং আর্টিকেলগুলো






৫। হৃদিপিন্ড সুস্থ রাখে সরিষার তেল


সরিষার তেলে থাকা মনো আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট
ভাল কোলেস্টেরল বৃদ্ধি ক’রে হৃদরোগের ঝুঁকি ৭০% কমিয়ে আনতে পারে।


৬। এজমা রোগে সরিষার তেল


এজমা এটাক (Asthma attack) হলে সরিষার তেল বুকে ঘষলে শ্বাস নেয়ার ক্ষমতা
বেড়ে যায়। সবসময় এর ব্যবহার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।


৭। ত্বক ও চুলের যত্নে সরিষার তেল


শীতের সময় এই তেল ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বকের শুষ্কতা দূর হয় এবং শরীর
গরম থাকে। এই তেলের ব্যাক্টেরিয়া এবং ফাঙ্গাস বিরোধী গুণাগুণ ত্বক ও চুলকে
উজ্জ্বল করে তুলে। এই তেল ব্যবহার করলে ত্বক কখনই কালো হয় না বরং ত্বকের
টোনের উন্নতি হয়।

৮। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে


রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে নাভিতে কয়েক ফোঁটা সরিষার তেল দিলে সুফল পাওয়া যায়।


৯। স্মরণশক্তি বৃদ্ধি ও চেতনার উন্নয়নে


সরিষার তেল স্মরণশক্তি বৃদ্ধি ও চেতনার উন্নয়নে সহায়তা করে।


১০। মাসিকের ব্যথা


মেয়েদের মাসিকের ব্যথা এবং গ্যাস ও বদহজম জনিত পেটের ব্যথায় সরিষার তেল পেটে মালিশ করলে সুফল পাওয়া যায়।

১১। পোকামাকড় এবং মশা তাড়ানো


পোকামাকড় এবং মশা তাড়ানোর জন্য ঔষধ হিসাবে সরিষার তেল ব্যবহৃত হয়। এর গন্ধে পোকামাকড় কাছে ঘেঁষে না।


১২। ওজন কমাতে সরিষার তেল


রিবোফ্ল্যাভিন (Riboflavin) ও নায়াসিন (Niacin) সমৃদ্ধ সরিষার তেল শরীরে মেটাবলিজম বাড়িয়ে ওজন কমাতে সাহায্য করে।

১৩। দাঁতের স্বাস্থ্য রক্ষায়


সুস্থ দাঁত ও জিঞ্জাভাইটিস ও পেরিওডন্টাইটিস রোগ প্রতিরোধে সরিষার তেল সহায়ক।


১/২ চা চামচ সরিষার তেল + ১ চা চামচ হলুদের গুঁড়া + ১/২ চা চামচ লবন মিশিয়ে দাঁত ও মাড়িতে হালকা করে দু’বেলা ঘষুন।


সতর্কতা


সরিষার তেলে থাকা ইরিউসিক এসিড (erucic acid) -এর কারনে রান্নার কাজে এই
তেল যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপে ব্যবহার নিষিদ্ধ। তবে এটা বাহ্যিক
ব্যবহার যেমন মালিশের জন্য এসব দেশে নিষিদ্ধ নয়।


শেষ কথা


বাজারে পাওয়া সব তেলের মধ্যে সরিষার তেল সব থেকে বেশী স্বাস্থ্যকর। তবে
এটা হতে হবে খাঁটি ঘানি ভাঙ্গা সরিষার তেল বা কোল্ড প্রেসড (cold pressed)।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের দেশগুলিতে নিষিদ্ধ হলেও সরিষার
তেল অন্যান্য দেশ বিশেষ করে এশিয়ার সর্বত্র রান্নার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। ইদানিং অনেকেই সয়াবিন তেলের পরিবর্তে খাঁটি
ঘানি ভাঙ্গা সরিষার তেল ব্যবহার করা শুরু করেছেন।


শীতে ত্বকের সব সমস্যার সমাধান হবে নিমেষেই, নিয়মিত ব্যবহার করুন সরিষার তেল!

 শীতকালে শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বক শুষ্ক ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তাই ত্বকের
বিশেষ যত্ন নেওয়ার প্রয়োজন হয়। শুষ্ক ও প্রাণহীন ত্বককে নরম-উজ্জ্বল করতে
সরিষার তেল ব্যবহার করতে পারেন।
Mustard Oil Benefits For Skin In Winter

মুখে সরিষার তেল দিয় মালিশ করলে ত্বকের অনেক উপকার হয়। সরিষার তেলে
অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ রয়েছে, যা ত্বকের অনেক সমস্যা দূর করে। সরিষার
তেল ব্যবহার করে ত্বকের দাগও কমে। তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক, ত্বকের
যত্নে সরিষার তেলের উপকারিতা

 ত্বকের দাগ দূর করে সরিষা তেল
ত্বকের দাগ দূর করে সরিষা তেল

শীতকালে ত্বকের যত্নে সরিষার তেল খুবই কার্যকর বলে মনে করা হয়। কালো দাগ
দূর করতে এক চামচ বেসন নিয়ে তাতে দুই চামচ দই মিশিয়ে নিন। এরপর এই
মিশ্রণে আধা চা চামচ সরিষার তেল দিন। ঘরে তৈরি এই ফেসপ্যাকটি মুখে লাগান।
১৫ মিনিট পর হালকা গরম জল দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। সপ্তাহে একবার ঘরে তৈরি
এই ফেস মাস্কটি ব্যবহার করুন। এই ফেসপ্যাক ব্যবহারে মুখের কালো দাগ দূর
হবে, পাশাপাশি ত্বক কোমল ও উজ্জ্বল হবে।
ফাইন লাইনস-এর জন্য সরিষার তেল
ফাইন লাইনস-এর জন্য সরিষার তেল

শীতে ত্বকের যত্ন এবং ফাইন লাইনস কমাতে সরিষার তেল খুবই কার্যকর বলে মনে
করা হয়। বলিরেখা কমাতে হালকা গরম তেল নিয়ে মুখে ম্যাসাজ করুন। ম্যাসাজ
করার পরে, একটি সুতির কাপড় ভিজিয়ে অতিরিক্ত তেল মুছে ফেলুন। ফল পাবেন
হাতেনাতে!

আরও পড়ুন :উজ্জ্বল ত্বক পেতে ব্যবহার করুন সরিষার তেলের ফেস প্যাক
ত্বকের ট্যান দূর করতে সরিষার তেল
ত্বকের ট্যান দূর করতে সরিষার তেল

শীতকালে রোদে বসার কারণে ত্বকে ট্যান পড়ে যায়। ত্বকের সুরক্ষায়
রাসায়নিক সানস্ক্রিনের পরিবর্তে সরিষার তেল ব্যবহার করতে পারেন। সরিষার
তেলে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-এজিং বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা ত্বকের
ট্যান দূর করতে খুবই সহায়ক।

ত্বকের ট্যান দূর করতে এক চামচ সরিষার তেল নিন। এই তেলে লেবুর রস মিশিয়ে
নিন। লেবুর রসে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না, তার পরিবর্তে দই
ব্যবহার করতে পারেন। এটি দিয়ে মুখে ম্যাসাজ করুন, ১০ মিনিট পর মুখ ধুয়ে
ফেলুন।


সরিষার তেল মাখলে যে উপকারগুলো অবশ্যই পাবেন

 এক সময়ে বাংলার ঘরে ঘরে শিশুদের
সরিষার তেল মাখিয়ে রোদে রাখার রেওয়াজ ছিল। ধারণা ছিল, তেল ও সূর্যের
ভিটামিন ডি শিশুকে ঠাণ্ডা থেকে দূরে রাখবে এবং শরীরের হাড়গোড় মজবুত হবে।
 শুধু তা-ই নয়, বড়রাও নিয়মিত শরীরে মাখতেন সরিষার তেল। 



ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যান্ডেড তেল কিংবা
বাজারচলতি লোশনের চেয়ে সরিষার তেলে আস্থা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। তবে সেই
তেলকে অবশ্যই খাঁটি হতে হবে। 



শুধু ত্বকই নয় হৃৎপিণ্ড, পেশি, গাঁট— হাজারো
সমস্যার মোকাবিলায় সরিষার তেলের বিকল্প নেই। তাই কেবল মুড়িমাখা কিংবা
আচাড়ে সরিষার তেল নয়, তা কাজে লাগে নানা রোগ নিরাময়েও। কেমন সে সব? তা জেনে
নিন...












• ত্বকে ঔজ্জ্বল্য আনতে প্রতিরাতে সরিষার
তেলের সঙ্গে সমপরিমাণ নারিকেল তেল মিশিয়ে মিনিট দশেক ধরে মাসাজ করুন। তারপর
ভাল করে মুখ ধুয়ে ঘুমোতে গেলে ত্বক যেমন নরম থাকবে, তেমনই উজ্জ্বল হবে।



• রোদে ত্বকে ট্যান পড়া স্বাভাবিক। ডার্ক
স্পট, ট্যান বা পিগমেন্টেশন ঠেকাতে বেসন, দই, লেবুর রসের সঙ্গে সরিষার তেল
মিশিয়ে মুখে-ঘাড়ে ১০-১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। তারপর ঠাণ্ডা পানি ধুয়ে ফেললে
উপকার পাবেন।



• সরিষার তেলে রয়েছে ভিটামিন এ, ই এবং বি কমপ্লেক্স। ফলে এটি রিংকল কমাতে সাহায্য করে।



• সানস্ক্রিনে খুব ঘাম হলে বা কোনভাবে
সানস্ক্রিন বাড়িতে না থাকলে অল্প সরিষার তেল হাতের তালুতে ঘষে মুখে লাগিয়ে
নিলে তা সূর্যের ক্ষতিকারক আলট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করবে।
তবে বেশি তেলে ধুলোবালি ধরে রাখে ত্বক। তাই খেয়াল রাখবেন পরিমাণের প্রতি।



• সরিষার তেল অ্যান্টি ব্যাকটিরিয়াল ও অ্যান্টি ফাঙ্গাল উপাদানে ভরপুর। তাই অ্যালার্জি ও র‌্যাশের হানা প্রতিরোধে সাহায্য করে।



• ত্বকের শুষ্কতা ও চুলকানি রুখতেও সরিষার তেল বিশেষ কাজে আসে।



•  সরিষার তেলে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফ্যাটি
অ্যাসিড ও ম্যাগনেশিয়াম থাকে, যা চুলের বৃদ্ধিতে অনেক সাহায্য করে। এ ছাড়া
প্রতি রাতে চুলে সরিষার তেল মালিশ করে লাগালে চুল কালো হবে এবং চুল পাকা
রোধ হবে।



•  শরীরে মালিশ করলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন এবং ঘর্মগ্রন্থি উদ্দীপিত হয় এবং শরীরের তাপমাত্রা কমে।



এএইচ/


ত্বকের পরিচর্যায় প্রয়োজন সরিষার তেল

 রান্না কিংবা ভর্তায় সরিষার তেল ছাড়া কোন গতি নেই।


এমনকি চুলের যত্নেও চাই একদম খাঁটি সরিষার
তেল। কিন্তু ত্বকের যত্নে সরিষার তেলের ব্যবহার তেমনটা নেই বললেই চলে।
ভীষণ উপকারী এই প্রাকৃতিক তেলে থাকা ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন-এ,
ভিটামিন-ই, ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের জন্য
চমৎকার কাজ করে। তবে ত্বকের জন্য সরিষা তেল কার্যকরি এর
অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ধর্মের জন্য।

ত্বকের ইনফেকশন দূর করতে সরিষার তেল


ত্বকের যেকোন ধরণের ইনফেকশনজনিত সমস্যায়
সরিষার তেলের এই স্ক্রাবটি ব্যাবহার করলে দ্রুত ইনফেকশনের সমস্যা দূর হয়ে
যাবে। স্ক্রাবটি তৈরি করতে প্রয়োজন হবে এক চা চামচ হলুদ গুঁড়া, ১-২ টি
জাফরান, এক চা চামচ চন্দন গুঁড়া, এক চা চামচ বেসন ও দুই চা চামচ সরিষার
তেল। এই সকল উপাদান একসাথে মিশিয়ে স্ক্রাব তৈরি করতে হবে। স্ক্রাবটি
আক্রান্ত স্থানে হালকাভাবে ম্যাসাজ করে মিনিট দশেক রেখে দিয়ে কুসুম গরম
পানিতে ধুয়ে নিতে হবে। সপ্তাহে ২-৩ বার স্ক্রাবটির ব্যবহারে ইনফেকশনের
সমস্যা কয়ে আসবে ও ত্বক দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।


ত্বকের দাগ দূর করতে সরিষার তেল


এই ফেস প্যাকটি তৈরিতে প্রয়োজন হবে এক
টেবিল চামচ বেসন, দুই টেবিল চামচ সরিষার তেল,  এক চা চামচ লেবুর রস ও দুই
টেবিল চামচ দই। একসাথে সকল উপাদান ভালোভাবে মেশানোর পর মিশ্রণ তৈরি হলে
সেটা মুখ ও গলার ত্বকে সমানভাবে ম্যাসাজ করতে হবে। ম্যাসাজ শেষে পনের মিনিট
অপেক্ষা করতে হবে। এরপর মুখ ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।

ব্রণের সমস্যায় সরিষার তেল


অনেকেই জানেন না, সরিষার তেল ব্রণের
সমস্যা দূর করতে উপকারী। অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল
উপাদান সমৃদ্ধ এই তেলে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড জেদি ব্রণ ও অ্যাকনের
সমস্যা কমায়। সরিষার তেল ব্যবহারের জন্য এক কাপ নারিকেল তেলের ভেতর এক চা
চামচ সরিষা তেলের বীজ ফুটিয়ে এরপর তেলটি ছেঁকে নিতে হবে। এই তেলটি ব্রণ
আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে সারারাত রেখে দিতে হবে। পরদিন সকালে হালকা ধাঁচের
ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে ধুয়ে নিতে হবে।


সরিষার তেল কি সয়াবিনের বিকল্প হতে পারবে

 প্রতি বছর দেশে গড়ে ২ লাখ টন সরিষার তেল উৎপন্ন হয়। বিপরীতে বছরজুড়ে
ভোজ্যতেলের চাহিদা ২০ লাখ টন। এ মুহূর্তে দেশের সবাই যদি সয়াবিন তেল সরিয়ে
রেখে শুধু সরিষার তেল দিয়ে রান্না শুরু করেন, তাহলে উৎপাদিত সরিষা তেল দিয়ে
মাত্র ৩৭ দিনের চাহিদা মেটানো যাবে।
 




দেশে যত সরিষা উৎপাদিত হয়, তার পুরোটাই তেল হয়ে বাজারে আসে না। বাংলাদেশ
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ক্রপস উইং শাখার তথ্য অনুযায়ী, বছরওয়ারি ফলন
যাই হোক, বীজ সংরক্ষণসহ সরিষার অন্যান্য ব্যবহার বাদ দিয়ে প্রতি বছর গড়ে ৫
লাখ টন সরিষা ব্যবহার হয় তেল উৎপাদনে।


বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের
তথ্য বলছে, সরিষা বীজে সাধারণত ৪০ থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত তেল
থাকে। এ হিসাবে এক কেজি সরিষা থেকে পাওয়া যায় ৪০০ গ্রাম তেল। ৪০ কেজি বা এক
মণ সরিষা থেকে তেল মেলে ১৬ কেজি।


অর্থাৎ প্রতি বছর ৫ লাখ টন সরিষা থেকে গড়ে ২ লাখ টন তেল পাওয়া যায়। বিপরীতে সারা বছর দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা ২০ লাখ টন।

ঘাটতি পূরণে সয়াবিনের বিকল্প হিসেবে ভোক্তারা যদি তাদের রান্নার পুরো
চাহিদা সরিষা তেল দিয়ে মেটাতে চায়, তাহলে এখন উৎপাদিত সরিষা তেল দিয়ে মাত্র
৩৭ দিনের চাহিদা মিটতে পারে।


কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে ৫ লাখ
৮৮ হাজার ৭৩৭ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। হেক্টরে ১.৩৬ টন গড় ফলন হিসাবে
৭ লাখ ৯৯ হাজার ৮৪১ টন সরিষা উৎপন্ন হয়।


বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, বিশ্বে যত তেল ব্যবহার হয়, তার ৬০
শতাংশের জোগান দেয় সয়াবিন, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি করোনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন
যুদ্ধের প্রভাবে এখন সয়াবিনের সরবরাহে মারাত্মক টান পড়েছে।


দেশে দৈনিক ভোজ্যতেলের চাহিদা ৫ হাজার ৪৭৯ টন। এর ৯০ শতাংশের জোগান আসে
আমদানীকৃত সয়াবিন থেকে। বাকিটা সরিষা, সানফ্লাওয়ার অয়েল, রাইস ব্র্যান
অয়েলসহ অন্যান্য উৎস থেকে আসে। এই বিকল্পগুলো থেকে সম্মিলিতভাবে বছরজুড়ে
তেল পাওয়া যায় মাত্র ২ লাখ ৩০ হাজার টন।


কয়েক দশক আগেও দেশে সরিষার তেল ছিল রান্নায় বহুল ব্যবহৃত ভোজ্যতেল। এরপর ধীরে ধীরে সেই রান্নাঘরে দখল নেয় সয়াবিন তেল।




মূলত বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজারনীতি এবং সরিষার তেলের তুলনায়
দাম কম হওয়ার কারণে দেশের ৯৫ ভাগ ক্রেতা এখন সয়াবিন তেলের ভোক্তা হয়ে
উঠেছে। অন্যদিকে দাম বেশি হওয়ায় সরিষা তেল পরিণত হয়েছে শৌখিন পণ্যে।


কয়েক মাস ধরে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বাজারে সয়াবিনের দাম চড়ছে। সেই
সঙ্গে দেখা দিয়েছে সরবরাহে ঘাটতি। পরিস্থিতির এতটাই অবনতি ঘটেছে যে, বাড়তি
দাম দিয়েও ধারে-কাছে মিলছে না সয়াবিন। এর বিপরীতে পরিমাণে কম হলেও দেশের
সর্বত্র মিলছে সরিষার তেল। আবার কাঠের ঘানি বা মেশিনে ভাঙা সরিষার তেল খোলা
বিক্রির পাশাপাশি করপোরেট কোম্পানিগুলোর মাধ্যমেও সারা দেশে বাজারজাত
হচ্ছে। সুবিধামতো মিলছে ১০০ গ্রাম, ২৫০ গ্রাম, ৫০০ গ্রাম, ১ লিটার ও পাঁচ
লিটারের বোতলেও।


এ অবস্থায় অনেক ভোক্তা বিকল্প হিসেবে আবারও সরিষার তেলে ফেরার কথা
ভাবছেন, কিন্তু সয়াবিনের তাপ এসে লেগেছে সরিষার তেলের বাজারেও। সেখানেও
দামে ঊর্ধ্বগতি। একসঙ্গে অনেক ক্রেতা এই তেল কিনতে শুরু করায় এই পরিস্থিতি
তৈরি হয়েছে।


বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজারে ছাড়া আগের সব স্টক ইতোমধ্যে ফুরিয়ে
এসেছে। তাদের ঘন ঘন ছাড়তে হচ্ছে নতুন স্টক। আগে কোম্পানিভেদে প্রতি লিটার
বোতলজাত সরিষার তেলের দাম রাখা হতো ২৮০ থেকে ২৯০ টাকা। এখন নতুন মূল্য
উঠেছে ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা।


শুধু বড় কোম্পানিই নয়, দাম বেড়েছে স্থানীয়ভাবে ঘানিতে ভাঙা সরিষার তেলেরও।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাজারে সয়াবিনের অস্থিরতা তৈরির আগে প্রতি লিটার
খোলা সরিষার তেলের দাম ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। রোজার আগে এ দাম
বেড়ে ২২০ থেকে ২৪০ টাকায় গড়ায়।


ঘানি ভাঙা তেল রোজার আগে ছিল ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা পর্যন্ত। এখন সয়াবিনের
মারাত্মক ঘাটতিতে প্রচণ্ড রকম চাপ পড়েছে সব ধরনের সরিষার তেলের ওপর। এতে
করে আরেক দফা দাম বাড়ে ঘানিতে ভাঙা সরিষারও। বর্তমানে এই তেল স্থানভেদে ৩২০
থেকে ৩৬০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে।


বিক্রেতারা বলছেন, দেশে সয়াবিন তেলের বাজার অস্থির হওয়ার আগে তারা
দোকানে সরিষার তেল রাখতেন শৌখিন পণ্য হিসেবে। সাধারণত আচার, চাটনি তৈরিতে
এর ব্যবহার হতো। এ ছাড়া ভর্তা খাওয়া বা মুড়ি মাখার জন্য আগ্রহী ক্রেতাই
শুধু সরিষার তেল কিনতেন। ফলে সরিষার তেল উৎপাদন এবং সরবরাহ খুব কম হতো।


তারা বলছেন, যেটুকু সরবরাহ থাকত, বাজারে তার স্টক শেষ হতে সপ্তাহ থেকে
মাস লেগে যেত। এখন ক্রেতারা আসছেন, সরিষার তেল চাচ্ছেন, কিন্তু স্টক ফুরিয়ে
যাওয়ায় কিনতে পারছেন না। অনেকে এখন ঘানিতে ভাঙা তেলের খোঁজ করছেন। বাড়তি
চাহিদার কারণে কৃষক পর্যায়েও বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে সরিষার দাম।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মৌসুমের শুরুতেও প্রতি মণ সরিষার দাম ছিল মানভেদে ২
হাজার টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। এখন সেই সরিষা বাজারে বা কৃষক
পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়।


মূলত সরিষার দাম বাড়ায় তেলের দামও বেড়েছে। আবার সরিষা কিনে মিলাররাও তেল
বিক্রিতে বাড়তি মুনাফা করার চেষ্টা করছেন। এ কারণেও সরিষার তেলের দাম
বেড়েছে।


বাজারে বর্তমানে রাঁধুনি, তীর, ফ্রেশ, সুরেশ, পুষ্টি, রূপচাঁদা ছাড়াও
কমপক্ষে ২০টিরও বেশি ব্র্যান্ড ও নন ব্র্যান্ডের সরিষার তেল বিক্রি হচ্ছে।


এ বিষয়ে তীর ব্র্যান্ডের সরিষা তেল বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান সিটি
গ্রুপের পরিচালক (অর্থ) বিশ্বজিৎ সাহা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি খুব
সিম্পল। চাহিদা বাড়লে দাম বাড়বে। এটাই স্বাভাবিক।


‘তেলের কাঁচামাল হলো বীজ, কিন্তু এবার বাড়তি চাহিদার কারণে সরিষার বীজের দামও বেড়েছে। সরিষা কেনায় বেশি খরচ পড়ায় দামও বাড়াতে হয়েছে।’


সরিষা চাষ বাড়ানো সম্ভব?


সরিষা দেশের সর্বত্র চাষ হলেও ঢাকা, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, ফরিদপুর,
জামালপুর, কিশোরগঞ্জ, বরিশাল, যশোর, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, পাবনা, রাজশাহী ও
রংপুর জেলায় এটি বেশি চাষ হয়।


দেশের তেলবীজ আবাদি জমির প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকায় সরিষা চাষ করা হয়। এরপরও ২০১৯ সালে প্রায় দশমিক ৪৬ লাখ টন সরিষা আমদানি করা হয়েছে।


বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা দাবি করেন, এ
ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরিষা আবাদের পরিমাণ বাড়াতে হবে। এ জন্য
এখনই প্রয়োজন তেল ফসলের চাষাবাদ বৃদ্ধি করে উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেয়া।


বিনার উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং তেলজাতীয়
ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের উপপ্রকল্প সমন্বয়ক ড. রেজা মোহাম্মদ ইমনের
দাবি, দেশের ২২ লাখ হেক্টর পতিত (দুই ফসলের মাঝের) জমিতে যদি বিনাসরিষা-৪ ও
বিনাসরিষা-৯ আবাদ করা যায়, তাহলে বছরে ১৭ হাজার কোটি টাকার তেল আমদানি
সাশ্রয় করা সম্ভব।


তিনি আরও মনে করেন, প্রতি বছর ৩ দশমিক ৫ লাখ টন উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলে
২০৩০ সালে মোট সরিষা উৎপাদন হবে প্রায় ৪৬ দশমিক ৬৩ লাখ টন, যা থেকে প্রায়
১৬ দশমিক ৩২ লাখ টন তেল পাওয়া সম্ভব। এতে ১৭ হাজার কোটি টাকার যে তেল
আমদানি করতে হয়, তা আর আমদানি করতে হবে না। এ জন্য অবশ্যই দুই ফসলি জমিকে
তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করতে হবে বিনাসরিষার মাধ্যমে।


সরিষার তেলের জানা-অজানা উপকারিতা

 ওজন কমাতে  আমরা খাবারের দিকে গুরুত্ব দিলেও কোন তেল দিয়ে রান্না করা
হচ্ছে সে বিষয়টি এড়িয়ে যায় অনেক সময়। আমরা যে তেলে রান্না করি তাতে
স্যাচুরেটেড এবং আনস্যাচুরেটেড, দু ধরনের ফ্যাট থাকে। স্যাচুরেটেড ফ্যাট
আমাদের শরীরের জন্য খারাপ হলেও, আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট কিন্তু শরীরের
উপকার করে। সেই হিসেবে শরীরের ভালোর জন্য সরিষা তেল খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন
বিশেষজ্ঞরা।

সরিষার তেলের বদলে রিফাইন্ড ভেজেটেবল অয়েল ব্যবহার করেন অনেকই। কিন্তু
বাঙালির রান্নাঘরে সরিষা তেলের ঝাঁঝই মানানসই। শুধু তাই না পুষ্টিবিদরাও
সরিষার তেলের গুণের কথা বলছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘানি থেকে আনা সরিষার তেল
স্বাস্থ্য এবং ত্বকের জন্যে খুবই ভালো।


বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হল করোনারি হার্ট ডিজিজ । আর
রান্নার তেলের কারণে এই হার্টের রোগের ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়ে। একটি সমীক্ষায়
দেখা গেছে, সরিষার তেল মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত যা কোলেস্টেরলের
মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করতে এবং করোনারি হার্ট ডিজিজের ঝুঁকি হ্রাস
করতে পারে।


যেভাবে সরিষার তেল ওজন কমায়?


সরিষার তেলের রান্না হার্ট, হাড়, হজম এবং স্নায়ুতন্ত্রের জন্য
স্বাস্থ্যকর সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। এতে মনোস্যাচুরেটেড এবং
পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। এই তেল ডিপ ফ্রাই, খাবার গরম এবং
খাবারে অনন্য স্বাদ আনতে কার্যকর। যারা পেটের সমস্যায় ভোগেন বা যাদের হজমে
সমস্যা রয়েছে তাদের প্রতিদিনের রান্নায় সরিষার তেল ব্যবহার করা উচিত। এই
তেল হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। আর দ্রুত খাবার হজম হলে ওজন নিয়ন্ত্রণে
থাকে।


ফ্যাটের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে সরিষার তেল


সরিষার তেলের কড়া ঝাঁঝের জন্য আজকাল অনেকে ব্যবহার করতে চান না। কিন্তু
এতে আছে ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড। স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড
কেবল খাবারের স্বাদই উন্নত করে না, রক্তে চর্বির মাত্রাও হ্রাস করে।


সরিষার তেলের উপকারিতা


১. সরিষার তেলে রয়েছে মনোস্যাচুরেটেড এবং পলিঅনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী।


২.এ ছাড়া এটি ভালো কোলেস্টেরল বৃদ্ধিতেও সহায়ক।


৩.সরিষা তেলের ক্যান্সার বিরোধী বৈশিষ্ট্যোর কারণে তা ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে।


৪. সরিষা তেল জয়েন্টের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।


৫.ত্বকের যত্নেও সরিষা তেল অতুলনীয়।


যেকোন ধরণের রান্নায় আস্তে আস্তে সরিষা তেল ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলুন।  তবে ভাজা জাতীয় খাবারে সরিষার তেল এড়িয়ে চলা উচিত।


সরিষার তেলের অসাধারণ কিছু গুণ

 সরিষা বীজ থেকে তৈরি হয় সরিষার তেল। এটি গাঢ় হলুদ বর্ণের এবং বাদামের মত
সামান্য কটু স্বাদ ও শক্তিশালী সুবাস যুক্ত তেল। ঐতিহ্যগতভাবে এই তেল
আমাদের পূর্বপুরুষেরা ব্যবহার করে আসছেন। ওমেগা আলফা ৩ ও ওমেগা আলফা ৬
ফ্যাটি এসিড, ভিটামিন ই ও অ্যান্টি অক্সিডেন্টের সমৃদ্ধ উৎস হওয়ায় সরিষার
তেলকে স্বাস্থ্যকর তেল বলা হয়। এর ঔষধি গুণাগুণের জন্য প্রাচীনকাল থেকেই
আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় ব্যবহার হয়ে আসছে এই তেল। ত্বক, চুল ও স্বাস্থ্যের জন্য
সরিষার তেলের অসাধারণ উপকারিতার কথা জেনে নিই চলুন।



১. ত্বকের তামাটে ভাব দূর করে




সরিষার তেল ত্বকের তামাটে ভাব ও দাগ দূর করে ত্বককে প্রাকৃতিক ভাবে
উজ্জ্বল করতে পারে। এজন্য বেসন, দই, সরিষার তেল ও কয়েকফোঁটা লেবুর রস
একত্রে মিশিয়ে মিশ্রণটি আপনার ত্বকে লাগান। ১০-১৫ মিনিট পরে ঠান্ডা পানি
দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ভালো ফল পেতে সপ্তাহে ৩ বার ব্যবহার করুন।



২. প্রাকৃতিক সানস্ক্রিন



যেহেতু সরিষার তেল খুব ঘন হয় এবং এতে উচ্চমাত্রার ভিটামিন ই থাকে
সেহেতু এই তেল ক্ষতিকর আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে এবং অন্যান্য দূষিত
পদার্থ থেকে ত্বককে সুরক্ষা দিতে পারে। তাই স্কিন ক্যান্সার ও প্রতিরোধ
করতে পারে। ভিটামিন ই বলিরেখা ও বয়সের ছাপ দূর করতে পারে। তাই সানস্ক্রিন
লোশনের মতোই ব্যবহার করতে পারেন সরিষার তেল। তবে এই তেল যেহেতু ঘন তাই
ত্বকে লাগানোর পর ভালো ভাবে ঘষে নিতে হবে যেনো অতিরিক্ত তেল লেগে না থাকে।
অন্যথায় অতিরিক্ত ধুলাবালি জমা হয়ে ত্বকের ভালোর চেয়ে খারাপই হতে পারে
বেশি।



৩. ঠোঁটের যত্নে



শুষ্ক ঠোঁটের যত্নে সরিষার তেল চমৎকার প্রতিকার হিসেবে কাজ করে
যেখানে লিপ বাম বা চ্যাপ স্টিক অকার্যকর। ঘুমাতে যাওয়ার আগে আপনার নাভির
মধ্যে এক বা দুই ফোঁটা সরিষার তেল দিন। তাহলে আর কখনোই আপনার ঠোঁট শুকাবে
না বা ফাটবে না।



৪. চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে



সরিষার তেল চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, অকালে চুল সাদা হওয়া রোধ
করে ও চুল পড়া কমায়। সরিষার তেল ভিটামিন ও খনিজে পরিপূর্ণ থাকে। বিশেষ করে
উচ্চমাত্রার বিটা ক্যারোটিন থাকে এতে। বিটা ক্যারোটিন ভিটামিন এ তে
রূপান্তরিত হয়ে চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে আয়রন, ক্যালসিয়াম,
ফ্যাটি এসিড ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে যা চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। প্রতিরাতে
চুলে সরিষার তেল মালিশ করে লাগালে চুল কালো হয়।



৫. ক্ষুধা বৃদ্ধি করে



ক্ষুধার উপর সুস্বাস্থ্য বহুলাংশে নির্ভর করে। পাকস্থলীর পাচক রস
উদ্দীপিত করার মাধ্যমে ক্ষুধা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে সরিষার তেল। যাদের
ক্ষুধার সমস্যা আছে তারা রান্নায় সরিষায় তেল ব্যবহার করতে পারেন।



৬. উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে



পরিপাক, রক্ত সংবহন ও রেচন তন্ত্রের শক্তিশালী উদ্দীপক হিসেবে কাজ
করে সরিষার তেল। খাওয়ার পাশাপাশি বাহ্যিকভাবে শরীরে ম্যাসাজ করলে শরীরের
রক্ত সঞ্চালন এবং ঘর্ম গ্রন্থি উদ্দীপিত হয় এবং শরীরের তাপমাত্রা কমে।



৭. কার্ডিওভাস্কুলার উপকারিতা



সরিষার তেল মনোস্যাচুরেটেড ও পলিস্যাচুরেটেড ফ্যাটে সমৃদ্ধ বলে
কোলেস্টেরলের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে। এর ফলে কার্ডিওভাস্কুলার
রোগের ঝুঁকি কমে।



৮. ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়



সরিষার তেলে গ্লুকোসিনোলেট নামক উপাদান থাকে যা
অ্যান্টিকারসিনোজেনিক উপাদান হিসেবে পরিচিত। তাই ক্যান্সারজনিত টিউমারের
গঠন প্রতিরোধে সাহায্য করে সরিষার তেল। এর ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট কোলোরেক্টাল ও
গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল ক্যান্সার থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।



এছাড়াও অ্যাজমা ও সাইনুসাইটিসের প্রাকৃতিক প্রতিকার হিসেবে সরিষার
তেল অত্যন্ত কার্যকরী, ঠান্ডা-কাশি নিরাময়েও চমৎকার কাজ করে সরিষার তেল,
ব্যাকটেরিয়ার ইনফেকশনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে, এতে অ্যালাইল
আইসোথায়োসায়ানেট নামক অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান থাকে বলে ছত্রাকের ইনফেকশন
নিরাময়ে কাজ করে।


সরিষার তেল : খাবেন না মাখবেন?

 শুধু ঝাঁজেই নয়, মুখের রসনা বাড়াতে খাবারের স্বাদ রাঙাতে, ত্বকের যত্নে,
এমনকি গাঁটের ব্যথা কমাতে সরিষার তেলের তুলনা নেই। সরষে ইলিশ থেকে শুরু
করে মুড়িমাখা ও শরীরের সব জায়গায় মালিশ করা যায় সরিষার তেল। জেনে নিন কী কী
উপকার মেলে এই তেল থেকে-



মগজ শানাতে




চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে, সরিষার তেল মস্তিষ্কের জন্য ভীষণ উপকারী।
বিশেষ করে অবসাদ কাটাতে, স্মৃতিশক্তি আর মনঃসংযোগ বাড়াতে এই তেল যথেষ্ট
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই আজকে থেকে রান্নাটা সরিষার তেলেই শুরু
করুন।



খিদে বাড়াতে



খিদে বাড়াতে সরিষার তেলের কোনো তুলনা নেই। তাই ক্ষুধামন্দায় ভুগলে রান্নায় ব্যবহার করুন এ তেল।



হাড়ক্ষয় রোধে



সরিষার তেল মালিশে হাড়ক্ষয় রোধ হবে। ঈষদুষ্ণ তেল মাখলে কমবে আরথ্রাইটিস ও।



ক্যানসার প্রতিরোধে



বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা জানিয়েছে, ক্যানসার প্রতিরোধের অনেক গুণ সরিষার
তেলে রয়েছে | এই তেলে থাকা লিনলেনিক অ্যাসিড ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডে
পরিণত হলে তা স্টমাক আর কোলন ক্যানসার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে |



ব্যথা নাশে



আচমকা চোট পেয়ে হাত-পায়ের পেশি অবশ হয়ে গেলে সরিষার তেল হালকা গরম করে ব্যথার উপর মালিশ করুন| দ্রুত সাড়া ফিরে পাবেন।



হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখতে



সরিষার তেলে প্রচুর পরিমাণে মনো-স্যাচুরেটেড ও পলি-আনস্যাচুরেটেড
ফ্যাটি অ্যাসিড, ওমেগা থ্রি ও সিক্স ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে| তাই রান্নায় রোজ
সরিষার তেল খেলে হার্ট ডিজিজ হওয়ার প্রবণতা প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যায়|
এছাড়াও, সরিষার তেল শরীরের খারাপ কোলেস্টরেল-এর পরিমাণ কমিয়ে ভালো
কোলেস্টেরল-এর মাত্রা বাড়িয়ে দেয়| এতে হার্ট ভালো থাকে| চট করে হার্টের
অসুখে ভোগার সম্ভাবনাও কমে যায়|



সর্দি কাশি কমাতে



সর্দি কাশি কমাতে সরিষার তেলে রসুন থেঁতো করে ফুটিয়ে নিন| ঈষদুষ্ণ
অবস্থায় বুকে-পিঠে মালিশ করুন| রোজ রাতে শোয়ার সময় এই টোটকা ব্যবহার করলে
বুকে জমা কফ উঠে আসবে।



প্রাকৃতিক সানস্ক্রিন হিসেবে



কী দরকার বাজারের ক্ষতিকারক সানস্ক্রিন ব্যবহার করার? হাতের কাছে সরিষার তেল থাকলে সানস্কিন হিসেবে নিশ্চিতে ব্যবহার করে ফেলুন।



ত্বকের যত্নে



সরিষার তেলে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল আর এন্টি ফাংগাল উপাদান এলার্জি,
রাশ কমাতে সাহায্য করে| শীতে অনেকেই তাই সরষের তেল মেখে স্নান করতে পছন্দ
করেন | এছাড়াও এই তেল মাখলে ত্বকের ময়েশ্চার বজায় থাকে| ত্বক ফাটে কম।



কেএইচ/এমকে


কেন খাঁটি সরিষার তেল ব্যবহার করবেন?

 

বাঙালির রান্নায় সরিষার তেল না থাকলে যেন জমে না। মাছ ভাজা, নানা রকম ভর্তা, মুড়ি মাখা, আচারের মতো মুখরোচক খাবারে সরিষার তেল যোগ করে আলাদা স্বাদ। ভাপ দিয়ে রাঁধতে হয়—এমন পদেও এই তেলের জুড়ি নেই। সরিষার তেল হার্টকে ভালো রাখে। ক্ষতিকর কোলেস্টরল কমায়। নানা রকম গুণ আছে সরিষার তেলের।


গতকাল শনিবার ভারতের অন্যতম প্রধান দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে সরিষার তেলের গুণাগুণের এমন বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

ভারতের নামী পুষ্টিবিদ সন্ধ্যা গুগনানি বলেন, সরিষার তেল নিয়ে একটা কথা চালু আছে যে এতে ইউরিক অ্যাসিড থাকায় এটা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপে গ্রহণ নিষিদ্ধ। ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা করে এর ক্ষতিকর প্রভাব দেখা গেছে। কিন্তু গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, মানুষের ওপর এর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব নেই। বরং অন্য সব তেলের তুলনায় অন্যতম স্বাস্থ্যকর তেল হিসেবে বিবেচনা করা হয় একে। অন্যান্য তেলের তুলনায় এতে ওমেগা ৩ ও ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি। জেনে নিন খাঁটি সরিষার তেলের এক ডজন গুণাগুণ।

১. এর আছে ঝাঁজালো অনন্য স্বাদ। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ওডিশা, আসাম ও নেপালে ঐতিহ্যগত রান্নার তেল হিসেবে সরিষার তেলের ব্যবহার রয়েছে।

২. এক চা-চামচ সরিষার তেলে আছে ১২৬ ক্যালরি।

৩. সরিষার তেল অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদানসমৃদ্ধ। ত্বকের ওপর এই তেল দিয়ে ম্যাসাজ করলে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন দূর হয়। এরা ফাঙ্গাসের বৃদ্ধি রোধ করে।

৪. পোকামাকড় সরিষার তেল সহ্য করতে পারে না। এই তেল ব্যবহার করে পোকামাকড় থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

৫. সরিষার তেলে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড (অলিক ও লিনোলিক অ্যাসিড) চুল পুনরুজ্জীবিত করে তোলে। চুলের গোড়া মজবুত করে এবং মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। নিয়মিত
সরিষার তেল ব্যবহারে চুল পড়া কমে।

৬. সরিষার তেল শরীর উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরের ঘাম বের হওয়ার গ্রন্থিগুলো পরিষ্কার ও সচল রাখে। ফলে শরীরের বর্জ্য পদার্থগুলো বের হয়ে যায়।

৭. এটি উষ্ণ তেল হিসেবে শীতের সময় শরীরে ম্যাসাজ করা যায়।

৮. এর উষ্ণতার গুণের কারণে আয়ুর্বেদশাস্ত্রে একে কফ ও কাশি প্রতিরোধক হিসেবে বলা হয়েছে।

৯. বাতের ব্যথা দূর করতে সরিষার তেলের ব্যবহার দেখা যায়।

১০. দাঁতের মাড়ির বিভিন্ন রোগ দূর করতে লবণ ও সরিষার তেল ব্যবহার করা হয়।

১১. ভারতের অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস ও স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন ভোজ্যতেলের মধ্যে চর্বির তুলনা করে দেখেছেন, সরিষার তেলের ব্যবহারে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে। গবেষকেরা অলিভ অয়েল, ক্যানোলা ও সূর্যমুখী তেলের মধ্যে তুলনা করেছিলেন। প্রিভেনটিভ কার্ডিওলজি সাময়িকীতে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয় গবেষণাসংক্রান্ত নিবন্ধ।

১২. সরিষার তেল আর হলুদ ফেসপ্যাক হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এতে ত্বকের খসখসে ভাব দূর হয় এবং শুষ্ক চামড়া ঝরে পড়ে। তথ্যসূত্র: টিএনএন।


চুলে সরিষার তেল ব্যবহারে যেসব ভুল করা যাবে না

 উপমহাদেশে প্রাচীনকাল
থেকে চুলে সরিষার তেল ব্যবহার হয়ে আসছে। এ তেল ব্যবহারে রয়েছে অনেক উপকার।
তবে সঠিক নিয়মে এ তেল ব্যবহার করতে হবে।

চুলের যত্নে সরিষার তেল প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে। বিশেষ করে
চুলে জট পড়া রুক্ষ চুলের রাশিকে নরম ও মোলায়েম করে তোলে এই তেল। ডিপ
কন্ডিশনিং করে বলে সরিষার তেলের নিয়মিত ব্যবহারের ফলে চুল হয়ে ওঠে উজ্জ্বল ও
নরম। ছবি: সংগৃহীত

ডগাচেরা চুল ও খুসকির সমস্যাও দূর করে সরিষার তেল। অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল
ও অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্যের জন্য সরিষার তেলের ফলে খুসকিও কমে যায়।
ছবি: সংগৃহীত

এতো উপকারিতা সত্ত্বেও ও সরিষার তেলই চুলের জন্য চরম অপকারী হয়ে উঠতে
পারে। ঠিকমতো ব্যবহার না করা হলে সরিষার তেলই চুলের জন্য হিতে বিপরীত হয়ে
উঠতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

সরিষার তেল ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করে নিন। তাহলে বুঝতে পারবেন
সরিষার তেল থেকে আপনার ত্বকে কোনো সংক্রমণ হতে পারে কিনা। পার্শ্ব
প্রতিক্রিয়া সম্বন্ধে নিশ্চিত হয়ে তবেই চুলে সরিষার তেল দিন। ছবি: সংগৃহীত

অয়েলি স্ক্যাল্প বা তেলতেলে মাথায় সর্ষের তেল একদমই দেবেন না। তাহলে
ত্বকের পোরস আটকে গিয়ে চুলের হাইড্রেশন কমে যেতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

নেকেই রাতভর তেল মেখে থাকেন। সরিষার তেল সারারাত দিয়ে রাখবেন না। এতে
স্ক্যাল্প খুব চিটচিটে হয়ে পড়বে। শ্যাম্পু করার পরও স্ক্যাল্প ভালো
পরিষ্কার হবে না। তাই গোসলের আধঘণ্টা আগে চুলে সরিষার তেল মাখলেই যথেষ্ট।
ছবি: সংগৃহীত

সরিষার তেল সবসময় গরম করে চুলে দিন। গরম করলে সরিষার তেল অনেক পাতলা ও
হালকা হয়ে যায়। ফলে চুল সহজেই সরিষার তেল শোষণ করে নেয় এবং প্রয়োজনীয়
পুষ্টি লাভ করে। ছবি: সংগৃহীত


রান্নায় সরিষার তেল খেলে কি সত্যিই ওজন কমে?

 সরিষার তেল যেমন চুলের জন্য উপকারী, ঠিক তেমনই এই তেল স্বাস্থ্যের জন্যও
অনেক ভালো। বিশেষ করে সয়াবিন তেলের তুলনায় সরিষার তেল খাওয়া বেশি
স্বাস্থ্যকর। তবে ওজন কমাতেও কি সাহায্য করে এই তেল?


আসলে যে কোনো তেলেই স্যাচুরেটেড ও আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে।
স্যাচুরেটেড ফ্যাট আমাদের শরীরের জন্য খারাপ হলেও, আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট
আবার শরীরের জন্য উপকারী।

এ ধরনের ফ্য়াট কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এজন্য চিকিৎসকরা
একেবারেই অর্গ্যানিক সরিষার তেল খাওয়ার পরামর্শ দেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘানি
ভাঙানো সরিষার তেল সবচেয়ে ভালো।


স্বাস্থ্য এবং ত্বকের জন্যেও ভালো। অস্বাস্থ্যকর তেল খাওয়ার জন্য
বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো হার্টের অসুখ। এক সমীক্ষায়
দেখা গেছে, সরিষার তেল মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত, যা
কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় ও সিএইচডি’র ঝুঁকি কমায়।


সরিষার তেল যেভাবে ওজন কমায়


সরিষার তেল হার্ট, হাড়, হজম ও স্নায়ুতন্ত্রের জন্য স্বাস্থ্যকর। এতে
মনোস্যাচুরেটেড ও পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। যারা পেটের
বিভিন্ন সমস্যায় ভোগেন তারা প্রতিদিনের রান্নায় সরিষার তেল ব্যবহার করলে
উপকার পাবেন।

এই তেল হজমশক্তি বাড়ায়। আর খাবার দ্রুত হজম হলে ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে।
এই তেলে থাকে ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড। সরিষার তেল লিভারের
কার্যকারিতাও উন্নত করে।


স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড শুধু খাবারের স্বাদই বাড়ায় না বরং রক্তে
চর্বির মাত্রাও হ্রাস করে। যেখানে ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড প্রাকৃতিকভাবে
শরীরে সঞ্চিত বাদামি চর্বির ব্যবহার বাড়ায়।


সরিষার তেলের উপকারিতা


>> সরিষার তেলে আছে মনোস্যাচুরেটেড ও পলিঅনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ।


>> এই তেল শরীরের ভালো কোলেস্টেরল বৃদ্ধিতেও সহায়ক।


>> গ্লুকোসিনোলেটের উপস্থিতির কারণে সরষের তেলের ক্যানসার বিরোধী বৈশিষ্ট্য আছে।


>> এই উপাদানগুলো কলোরেক্টাল ও গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনালের মতো ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।


>> সরিষার তেল রান্নার পাশাপাশি আরও অনেক উপায়েও ব্যবহার করা যায়।


>> গরম সরিষার তেল দিয়ে জয়েন্টগুলোতে ম্যাসাজ করলে অস্বস্তি অনেকাংশে কমে যায়।


কীভাবে ব্যবহার করবেন?


সরিষার তেল দিয়ে ভাজা জিনিস খাওয়া এড়িয়ে চলুন। তার চেয়ে আস্ত সরিষা বেটে বিভিন্ন খাবারে ব্যবহার করুন সবজি রান্না করার সময়।


মনে রাখবেন, সরিষার তেল ভালো করে গরম করে তবেই খাবেন। তেল অপরিশোধিত হলে
ব্যবহার করবেন না। এই তেল দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে মালিশ করতে পারবেন।



সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

যেভাবে বুঝবেন সরিষার তেল আসল না নকল

 রান্নার
ক্ষেত্রে অনেকেই সয়াবিন তেল ব্যবহার করে থাকেন। তবে এখন অনেকেই অলিভ ওয়েল
ব্যবহার করেন। আবার অনেকে এখনও সরিষার তেলই ব্যবহার করেন। তারা দাবি করেন,
এতে খাবারে তীব্র সুভাস বা স্বাদ বাড়িয়ে দেয়। তবে সরিষার তেল রান্নায়
স্বাদের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সরিষার তেল স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং পাশাপাশি এটি ত্বক এবং চুলের জন্যও খুব উপকারী।

তেলে রয়েছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল উপাদান, যা বিভিন্ন
ক্ষতিকর জীবাণুকে ধ্বংস করতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে সরিষার তেল বিদ্যমান
ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের বিভিন্ন ব্যথা, যন্ত্রণায় উপশম ঘটাতে
সাহায্য করে।

বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে, শরীরের ক্যানসার কোষগুলো
দ্রুত ধ্বংস করতে এ তেলের ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি এটিতে মোনোস্যাচুরেটেড
ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদপিণ্ডের জন্যও দারুণ উপকারী। যা বিভিন্ন হৃদরোগের ঝুঁকি
কমায়। এ ছাড়া শীতের মৌসুমে ঠান্ডা লাগার হাত থেকে শরীরকে রক্ষাও করে সরিষার
তেল।
তবে
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সরিষার তেল কেনার সময় অবশ্যই পরীক্ষা করে কিনতে হবে
এটি আসল না নকল। তবে কীভাবে জানবেন এটি আসল না নকল? আসুন জেনে নেওয়া যাক।

সর্ষের
তেল দোকান থেকে কেনার পর ২ থেকে ৩ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিন। এরপর যদি দেখেন,
সরিষার তেলের উপর সাদা রঙের কোনো আস্তরণ দেখা দিয়েছে, তাহলে বুঝে নিতে হবে
সেটি নকল তেল।

কেনার সময় কয়েক ফোঁটা হাতের তালুতে নিয়ে ভালোভাবে
ঘষুন। যদি কোনো গন্ধ পান বা হাতের রঙ বদলে যায়, তাহলে বুঝবেন সেটিতে অন্য
কোনো উপাদান মেশানো রয়েছে। সেই সরিষার তেল ১০০ শতাংশ আসল নয়।

সূত্র: এবিপি আনন্দ