Thursday, September 15, 2022

পাচক খাঁটি সরিষার তেলের উপকারিতা

 সরিষার তেল
হার্ট, হাড়, হজম ও স্নায়ুতন্ত্রের জন্য স্বাস্থ্যকর। এতে মনোস্যাচুরেটেড ও
পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। যারা পেটের বিভিন্ন সমস্যায় ভোগেন
তারা প্রতিদিনের রান্নায় সরিষার তেল ব্যবহার করলে উপকার পাবেন। এই তেল হজমশক্তি বাড়ায়।


সর্ষের তেলেই রয়েছে সৌন্দর্যের চাবিকাঠি, ট্রাই করুন এই সহজ টিপসগুলি

 সকলের মধ্যমণি হয়ে ওঠার জন্য চাই স্পেশ্যাল কেয়ার

শুকিয়ে যাওয়া ত্বকের জন্য সর্ষের তেল ভীষণ উপকারী

ঠোঁট ফাটার থেকে মুক্তি পেতে ভরসা রাখুন সর্ষের তেলে

সর্ষের তেল নিয়মিতভাবে মাথায় ব্যবহার করলে খুসকি, চুল পড়ার মতো সমস্যা থেকে অনায়াসেই মুক্তি পাওয়া যায়


শীতকাল
চলে এসেছে। আর শীতকাল আসা মানেই ত্বকের চাই বাড়তি যত্ন । শীত মানেই নানা
উৎসব, একের পর এক বিয়েবাড়ি, অনুষ্ঠান লেগেই রয়েছে। সকলের মধ্যমণি হয়ে ওঠার
জন্য চাই স্পেশ্যাল কেয়ার। জমকালো পোশাক, আর সাজলেই সকলের নজরকাড়া যায়
না। তার জন্য শরীরেরও যত্নের প্রয়োজন হয়। শীত পড়তে না পড়তে ত্বকে টান
ধরতে শুরু করেছে। তার পাশাপাশি বিভিন্ন ময়েশ্চারাইজার, বডি অয়েলেরও কদর
বেড়েছে। ঠাকুমা-দিদিমাদের আমলে এতকিছু বায়নাক্কা ছিল না। খাটি সর্ষের
তেলেই ত্বক থেকে শুরু করে চুল , সারা শরীরের পরিচর্যা করতেন। কিন্তি এখন
সময় বদলেছে। এখনকার দিনে সর্ষের তেলের বদলে জায়গা করে নিয়েছে বাজারচলতি
বিভিন্ন তেল। কিন্তু সর্ষের তেলের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে অনেক গুণ। রূপচর্চায়
এই সর্ষের তেল বহুল প্রচলন রয়েছে। যা ম্যাজিকের মতোন কাজ করে। তাহলে জেনে
নেওয়া যাক সর্ষের তেলের একগুচ্ছ গুনাগুণ।





ত্বকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে



স্নানের আগে সর্ষের তেলের বহুল প্রচলন রয়েছে। স্নান করতে যাবার আগে
সর্ষের তেল দিয়ে সারা বডি ম্যাসাজ করে কিছুক্ষণ রেখে স্নান করতে যেতেন
কমবেশি প্রত্যেকেই। শুকিয়ে যাওয়া ত্বকের জন্য সর্ষের তেল ভীষণ উপকারী।
সর্ষের তেলের সঙ্গে বেসন, টকদই, লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে সারা গায়ে
মাখলে ত্বকের প্রাকৃতিক ঔজ্জ্বল্য ফিরে আসবে



চুলের যত্নে



সর্ষের তেল নিয়মিতভাবে মাথায় ব্যবহার করলে খুসকি, চুল পড়ার মতো
 শীতকালীন সমস্যা থেকে অনায়াসেই মুক্তি পাওয়া যায়। শ্যাম্পু করার কিছুক্ষণ
আগে বা আগের দিন সর্ষের তেল গরম করে ভাল করে সারা মাথায় ম্য়াসাজ করুন।
তারপর কিছুক্ষণ রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। এতে চুলের উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে।





শুষ্ক ত্বকের যত্নে



শীতকালে কমবেশি প্রত্যেকেরই  ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। এছাড়াও ত্বক থেকে ছাল
ওঠা এটা একটি বড় সমস্যা। এই সমস্যায় অনেকেই  ভুগে থাকেন। বিশেষত, কোনও
পার্টিতে যাবার সময়ও এই সমস্যা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি
পেতে ভীষণ কার্যকরী সর্ষের তেল। হাতে কয়েক ফোঁটা সর্ষের তেল নিয়ে সারা
মুখে ঘষে নিন। তারপর কিছক্ষণ রেখে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তারপর দেখবেন ত্বকের
আলগা চামড়াগুলো এমনিতেই উঠে গেছে। এরপর মেক আপ করে নিন।



ঠোঁটের যত্নে



শীতকালে ঠোঁট ফাটা একটি বড় সমস্যা। শুষ্ক ঠোঁটের কারণেই ঠোঁট ফাটে।
কয়েক ফোঁটা সর্ষের তেল নিয়ে ভাল করে ঠোঁটে মেখে নিন। যা বাজারচলতি লিপবামের
থেকে অনেক বেশি কার্যকরী। তাই আর দেরী না করে আজ থেকেই সর্ষের তেল লাগানো
শুরু করুন। আর ঘরোয়া এই তেল দিয়েই নিজেকে সুন্দর করে তুলুন।



খাঁটি সরিষার তেল ব্যবহারের বিশেষ ১০টি উপকারিতা

 সরিষার তেল
আমাদের ঐতিহ্য। সরিষার তেল একসময় গ্রামবাংলার একমাত্র ভোজ্যতেল ছিল। এই তেল
প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে এর ঔষধি গুণাগুণের
জন্য। সরিষার তেল যেমন প্রয়োজনীয় তেমন উপকারীও।
তবে
বর্তমানে, বাজারে সয়াবিন তেলের আবির্ভাবের পর থেকেই আমরা অনেকেই সরিষার
তেলের উপকারিতার কথা ভুলে গেছি। অথচ এক সময় আমাদের রান্নার প্রধান উপকরণ
ছিল সরিষার তেল। এখনও প্রায় প্রতিটি বাড়ির রান্না ঘরে রয়েছে সরিষার তেল যা –
রান্নায়, ভর্তা বানাতে এমনকি মালিশের কাজেও ব্যবহৃত হয়। ভারতীয় উপমহাদেশে
খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ বছর আগে থেকেই চিকিৎসা শাস্ত্রে সরিষার তেল ব্যবহৃত হয়ে
আসছে। তাই সরিষার তেল প্রয়োজনীয় তেমনি এর উপকারিতাও অনেক।


গুণের শেষ নেই সরিষার তেলের

 সরিষা তেলের বহু গুণ রয়েছে। রান্নার তেল হিসেবে যেমন উপকারী, তেমনি
রূপচর্চায়ও সরিষা তেল ব্যবহার করা যায় নানাভাবে। ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে
সরিষা তেলে থাকে অনেক প্রয়োজনীয় উপাদান। এর মধ্যে আছে প্রোটিন,
ভিটামিন-ই, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স, ওমেগা ফ্যাটি এসিড এবং
পরিমাণমতো ভিটামিন-এ।


ত্বকে ব্রণ কিংবা সানট্যান হলে সরিষা তেল ব্যবহারে উপকার পাওয়া যাবে।
অল্প পরিমাণে সরিষা তেল হাতে নিয়ে ভালো করে ম্যাসাজ করুন আপনার ট্যানপড়া
ত্বকে। তারপর তুলো পানিতে ভিজিয়ে আস্তে আস্তে মুছে নিন। কিছুদিনের মধ্যেই
চোখে পড়ার মতো উপকার দেখতে পাবেন। নিয়মিত ব্যবহারে কখনোই সানট্যান হবে না।


মুখে কালো দাগ বা ছোপ কিংবা ব্রণ কমে গেলেও দাগ থেকে যায়। এর সমাধান হলো
দুই চামচ সরিষা তেল নিয়ে তার মধ্যে এক চামচ নারকেল তেল মেশান। এর মধ্যে
এক চামচ লেবুর রস আর দুই চামচ টকদই দিয়ে একটা প্যাক বানিয়ে মুখে মাখুন।
মিনিট দশেক পর ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে শুধু দাগ যাবে না, সঙ্গে মুখের
জেল্লা বাড়বে।


সরিষা তেল আর আদা এই দুটোতেই এমন উপাদান থাকে, যা ত্বকের প্রদাহজনিত
ক্রিয়ার গতি কমিয়ে দেয়। ফলে ব্যথা থেকে আরাম পাওয়া যায়। জয়েন্টের
ব্যথার হাত থেকে নিরাময় পেতে সরিষা তেলে পরিমাণমতো কর্পূর মেশান। তেলটা
গরম করে ঠাণ্ডা হতে দিন।






এবার সেই তেল দিয়ে মালিশ করুন। আরাম পাবেন। সরিষা তেল আমাদের শরীরের
রক্তসঞ্চালন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে এবং যাতে বাধাপ্রাপ্ত না হয়, যে
দিকে নজর রাখে। ক্লান্তি দূর করে পেশি উজ্জীবিত এবং সবল রাখতে সরিষা তেল
ভূমিকা রাখে।


একই সঙ্গে এই তেল শুধু আমাদের কোলেস্টেরল কমায় না, সঙ্গে লোহিত
রক্তকণিকার গঠনে ভূমিকা রাখে। সরিষা তেল ঠান্ডা লাগার কষ্ট থেকে বাঁচায়।
দুই হাতে তেল নিয়ে ভালো করে বুকে ম্যাসাজ করুন। আরাম পাবেন। সঙ্গে বুকের
জমা কফ বেরোতে বা কমতে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে বন্ধ নাক খোলার জন্য এক
বাটি পানি নিয়ে তাতে কয়েক ফোঁটা সরিষা তেল ফেলুন। এবার পানি একটু গরম করে
তার ভাপ নিন। দেখবেন বন্ধ নাক খুলে গেছে। ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সরিষা তেল
বুকে বা পায়ের তলায় মালিশ খুবই কার্যকর।


সরিষার তেলের জাদুকরী উপকারিতা

 সরিষার তেলের উপকারিতার কথা অনেকেই জানেন। এ তেল দিয়ে শুধু ত্বকই নয়-
হৃৎপন্ড, পেশি, গাঁটের সমস্যা পর্যন্ত দূর করা যায়। সরিষার তেল ভেষজ
প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক। এটি ব্যবহারে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং
সহজেই হজমকারক।



সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, শ্বাসনালি এবং মূত্রনালি ও ব্রঙ্কাইটিস
ইনফেকশন সারাতে সরিষার তেল বিশেষ ভূমিকা রাখে। এ তেলে রোগের জীবাণু ধ্বংসের
ক্ষমতা রয়েছে। এর উপাদান শরীর ক্ষুদ্রান্ত্রের মাধ্যমে গ্রহণ করে এবং
ফুসফুস ও বৃহদান্ত্রের প্রয়োজনীয় জীবাণুকে কোনোরকম ক্ষতি না করেই কিডনির
মাধ্যমে তা নিষ্কাশিত করে দেয়।



















সরিষার তেলের অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল এবং
অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এটি ক্ষতিকারক সংক্রমণ থেকে
হজমশক্তিকে রক্ষা করে। সরিষার তেলে থাকা ওমেগা ৩, ওমেগা ৫ ফ্যাটি অ্যাসিড
এবং ভিটামিন ই শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর মান সরবরাহ করে এবং রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।



সরিষার তেলের ৫টি স্বাস্থ্য উপকারিতার কথা প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া-



কাশি এবং সর্দি হ্রাস করতে সহায়তা করে: প্রাচীনকাল থেকেই সরিষার তেল কাশি,
সর্দি এবং অন্যান্য শ্বাস প্রশ্বাসের অ্যালার্জি প্রশমিত করতে ব্যবহৃত
হয়। সরিষার তেল দিয়ে স্টিম নিলে তা শ্লেষ্মা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
সরিষার তেল সাইনোসাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের উপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।



ইমিউনিটি বুস্টার হিসাবে কাজ করে: সরিষার তেলের ঝাঁঝালো উপাদান শ্লেষ্মা
এবং অবরুদ্ধ সাইনাস পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। রসুন ও লবঙ্গ দিয়ে সরিষার
তেল গরম করে পা এবং বুকে মালিশ করলে সর্দি-কাশি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।



লোহিত রক্তকণিকা শক্তিশালী করে: প্লাজমা, কোষের লিপিডস এবং কোষের ঝিল্লির
উপাদান হিসাবে বিভিন্ন জৈবিক ক্রিয়াকলাপ সম্পাদনের জন্য আমাদের শরীরের
প্রয়োজনীয় চর্বিগুলোর একটি প্রধান উৎস সরিষার তেল। এই তেল কোলেস্টেরল
কমাতে সহায়তা করে এবং লোহিত রক্তকণিকার ঝিল্লি গঠনের উন্নতি করে।



কার্ডিওপ্রোটেক্টিভ প্রভাব: গবেষণায় দেখা গেছে যে, সরিষার তেল খেলে
অ্যারিথমিয়াস, হার্ট ফেইলিও এবং এনজাইনা হ্রাস পেয়েছে। কার্ডিওভাসকুলার
ডিজঅর্ডারে আক্রান্তদের জন্য সরিষার তেল স্বাস্থ্যকর হিসাবে বিবেচিত হয়।
এটি ট্রাইগ্লিসারাইড, রক্তচাপ এবং প্রদাহ কমাতেও সহায়তা করে।



জয়েন্টে ব্যথা এবং বাত থেকে মুক্তি দেয়: সরিষার তেল নিয়মিত মালিশ করলে
তা পেশী এবং জয়েন্টের ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। সরিষার তেলে থাকা ওমেগা
৩ আর্থ্রাইটিসের কারণে সৃষ্ট কঠোরতা এবং ব্যথা কমাতে সহায়তা করে।



এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

চুল ও ত্বকে সরিষার তেল ব্যবহারে যত উপকার

 সরিষার তেল ত্বক ও চুলের যত্নে খুবই উপকারী। আপনি নিয়মিত ত্বক ও চুলের
যত্নে সরিষার তেল ব্যবহার করতে পারেন। মাথার তালুতে সরিষার তেল ম্যাসাজ
করলে অনেক উপকার পাবেন।

চুলে সরিষার তেল ব্যবহারের উপকারিতা সমুহ:

১.
চুলে নিয়মিত সরিষার তেল মালিশ করলে ফলিকল মজবুত হয়ে চুল পড়া বন্ধ হবে।
ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ সরিষার তেলে রয়েছে
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম মিনারেল এবং ভিটামিন এ
ডি ই ও কে। এ ছাড়া থাকে জিংক, বিটা ক্যারোটিন ও সেলেনিয়াম, যা চুল লম্বা
হতে সাহায্য করে।

. প্রাকৃতিক কন্ডিশনার সরিষার
তেলে আলফা ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা চুল সুন্দর ও স্বাস্থ্য উজ্জ্বল রাখে। এ
ছাড়া আলফা ফ্যাটি অ্যাসিড দারুণ কন্ডিশনারের কাজ করে। ফলে চুল দ্রুত বাড়ে।

৩.
রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি করে চুল রুক্ষ, শুষ্ক, নিষ্প্রাণ হয়ে গেলে নিয়মিত
মাথার তালুতে সরিষার তেল মালিশ করুন। ফলে মাথার তালুতে রক্ত সঞ্চালন
ঠিকভাবে হবে এবং চুলের গোড়া মজবুত হয়ে চুল পড়া বন্ধ হবে। এ ছাড়া চুল
সুন্দর, বড়, মজবুত ও স্বাস্থ্য উজ্জ্বল করতে সরিষার তেল অত্যন্ত উপকারী।

ত্বকে সরিষার তেল ব্যবহারের উপকারিতা সমুহ:

মুখে সরিষার তেল দিয়ে মালিশ করলে ত্বকে অনেক উপকার মেলে। সরিষার তেল দিয়ে তৈরি ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে মুখের দাগ দূর হবে।

ফেসপ্যাক তৈরির পদ্ধতি


চামচ সরিষার তেল, ১ চামচ বেসন, ১ চামচ দই এবং আধা চামচ লেবুর রস নিন। একটি
বাটিতে সরিষার তেল, দই, বেসন ও লেবুর রস একসঙ্গে ভালোভাবে মিশ্রিত করে ঘন
পেস্ট তৈরি করুন। এর পর মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

সরিষার তেলের ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে ত্বকের ডার্ক স্পট কমার পাশাপাশি ত্বক উজ্জ্বল হয়।



নিয়মিত সরিষার তেল খেলে শরীরের যত উপকারিতা

 গবেষণা পত্রগুলি অনুসারে শরীর এবং ত্বকের উপকারে নানাভাবে কাজে লাগে
সরিষার তেল। তাই এই খেলে শরীরের কোনও ক্ষয় ঘটবে, এমনটা ভেবে নেওয়ার কোনও
কারণ নেই বললেই চলে। তাহলে আর অপেক্ষা কেন, এখনই জেনে নিন প্রতিদিন সরষের
তেল খেলে কী কী উপকার পাওয়া যায় সে সম্পর্কে।

প্রসঙ্গত, সরষের তেলের অন্দরে থাকা একাধিক উপকারি উপাদান নানাভাবে শরীরের উপকারে লেগে থাকে। যেমন…


. মাইগ্রেন:


মাইগ্রেনের কষ্ট কমাতে ম্যাগনেসিয়াম দারুন কাজে আসে। আর যেমনটা
ইতিমধ্যেই আপনারা জেনে গেছেন যে সরষের তেলে এই খনিজটি বিপুল পরিমাণে থাকে।
তাই এমন তেলে রান্না করা খাবার খেলে মাইগ্রেনের কষ্ট একেবারে কমে যায়।
প্রসঙ্গত, সরষের তেলে ভাজা মাছ খেলে শরীরে ওমাগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের
পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ফলে অনেক ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।


. ক্যান্সার রোগের প্রকোপ কমায়:


সরষের তেলে উপস্থিত গ্লকোসুনোলেট এবং মিরোসিনেস নামে দুটি উপাদান
শরীরে ক্যান্সার সেলের বৃদ্ধি আটকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
তাই প্রতিদিন এই তেলটি খেলে এমন ধরনের মারণ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যে
অনেকাংশেই হ্রাস পাবে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।


. ডিপ ফ্রাই করার জন্য আদর্শ:


আমরা মানে বাঙালিরা যেহেতু বেশিরভাগ খাবারই উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করে
থাকি তাই আমাদের জন্য সরষের তেলের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আজকাল
অনেকে বাঙালিই স্বাস্থ্যের কথা ভেবে অলিভ ওয়েল ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু
একথা জেনে রাখা ভাল যে রকমের খাবার আমরা খেয়ে থাকি তা বানাতে অলিভ অয়েল
একেবারেই আদর্শ নয়। কারণ কম তাপমাত্রায় বানানো খাবারে অলিভ অয়েল ব্যবহার
করা যেতে পারে। কিন্তু যেসব খাবার বেশি আঁচে বানানো হয়, তাতে অলিভ অয়েল
ব্যবহার করলে শরীরের ভাল হওয়ার থেকে খারাপ হয় বেশি।


. ওমেগা ত্রি ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধি:


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রকাশ করা রিপোর্ট অনুসারে সরষের তেেল ওমেগা ৩
এবং ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধি, যা জয়েন্ট পেন এবং ডিপ্রেশনের মতো
রোগের প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।


. পেটে ব্যথা কমায়:


সরষের তেলে উপস্থিত অ্যান্টি-ইমফ্লেমেটারি উপাদান যে কোনও ধরনের প্রদাহ
কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। বিশেষত মাথা যন্ত্রণা এবং তলপেটের
অস্বস্তি কমাতে এই প্রকৃতিক উপাদানটি দারুন কাজে আসে।


. আর্থ্রাইটিস রোগের কষ্ট কমায়:


সেলেনিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম, এই দুটি খনিজ সরষের তেলে খুব বেশি পরিমাণ
থাকে, যা আথ্রাইটিসের প্রদাহ কমানোর পাশপাশি এই রোগের প্রকোপ হ্রাসেও
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই যারা এমন ধরনের হাড়ের রোগে
ভুগছেন, তাদের প্রতিদিন সরষের তেলে রান্না করা খাবার খাওয়া উচিত।


. ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পায়:


সরষের তেলে উপস্থিত স্বাস্থ্যকর ফ্যাট স্মৃতিশক্তি বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা
পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে মনোযোগ বৃদ্ধি এবং সার্বিকভাবে মস্তিষ্কের
কর্মক্ষমতার উন্নতিতেও সাহায্য করে।


. ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখে:


সরষের তেলে রয়েছে কপার, আয়রণ, ম্যাগনেসিয়াম এবং সেলেনিয়াম। এই খনিজগুলি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।


. ঠান্ডা লাগার হাত থেকে বাঁচায়:


আজও দাদী নানিরা নাতি-নাতিনিদের ছোট থাকতে সরষের তেল মাখিয়ে থাকেন। কেন
এমনটা করে জানেন? কারণ ঠান্ডা লাগা এবং সর্দি-কাশির সমস্যা থেকে শুরু করে
একাধিক রোগের হাত থেকে বাঁচাতে এই তেলটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।


১০. শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়:


একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে সরষের তেলে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা খারাপ
কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর মধ্যে দিয়ে হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার
সম্ভাবনা কমায়। সেই সঙ্গে শরীরের প্রতিটি কোণায় যাতে ঠিক মতো রক্ত পৌঁছে
যেতে পারে সেদিকেও খেয়াল রাখে।


১১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:


সরষের তেলে উপস্থিত বেশ কিছু পুষ্টিকর উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার
উন্নতি ঘটানোর মধ্যে দিয়ে আমাদের একাধিক রোগের খপ্পর থেকে দূরে রাখতে
বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।


১২. হার্টের পরম বন্ধু:


এক্ষেত্রে চিকিৎসকদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে ঠিকই। কিন্তু একাধিক
গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে নিয়মিত সরষের তেল খেলে হার্টের কোনও
ক্ষতি হয় না। বরং হৃদপিণ্ডের কর্মক্ষমতা বাড়ে। সেই সঙ্গে হঠাৎ হার্ট
অ্যাটাকের আশঙ্কাও হ্রাস পায়।


১৩. শ্বাস কষ্ট দূর হয়:


একাধিক গবেষণায় একথা প্রামাণিত হয়েছে যে শ্বাসকষ্ট সম্পর্কিত যে কোনো
ধরনের সমস্যা কমাতে সরষের তেলের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই যারা
এমন ধরনের রোগকষ্টে ভুগছেন, তাদের নিয়মিত সরষের তেল খাওয়া উচিত।


১৪. ডায়াটারি ফাইবার সমৃদ্ধ:


হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি নানাবিধ পেটের রোগ থেকে দূরে
রাখতে বিশেষ ভূমিকা নেয় সরষের তেল। আসলে এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার,
যা পেটের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে দারুন কাজে আসে। তাই পেটের রোগ তেকে যদি
দূরে ছাকতে চান তো কখনও সরষের তেলের সঙ্গে বন্ধুত্ব ভাঙবেন না।


কোন তেল বেশি উপকারী, সয়াবিন না সরিষা?

 প্রতিদিনের রান্নার কাজে তেল তো লাগেই। সবজি, মাছ, মাংস, ডাল, খিচুড়ি,
পরোটা কোনটাই বা তেল ছাড়া হয়! কিন্তু সব তেল যে স্বাস্থ্যের জন্য সমান
উপকারী, তা কিন্তু নয়। বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে উপকারী তেলের তালিকা।
কোনোটি বলছে অলিভ অয়েলই ভালো, কোনোটি আবার অ্যাভোকাডো তেলের পক্ষে। সরিষার
তেলের উপকারিতাও কম নয়। 

পরিশোধিত তেল কি ভালো?


আমাদের সবার রান্নাঘরেই থাকে পরিশোধিত তেল। বেশিরভাগেরই ধারণা, এই তেল
স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী এবং এই তেল দিয়ে সব ধরনের খাবার তৈরি করা
যায়। আসলেই কি এই তেল উপকারী? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তেল স্বাস্থ্যের জন্য
ভালো নয়। পরিশোধিত করতে গিয়ে এই তেল খুব বেশি তাপমাত্রার মধ্য দিয়ে আসে,
যে কারণে এর পুষ্টি অনেকটাই কমে যায়। এই তেলে পাওয়া যায় ট্রান্স ফ্যাট, যা
স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। উপকারী তেল তাহলে কোনগুলো? জেনে নিন-


ঘানিভাঙ্গা সরিষার তেল


পরিশোধিত তেলের বদলে কাচ্চি ঘানি ভাঙ্গা সরিষার তেল ব্যবহার করুন। এটি
তৈরিতে কোনো তাপমাত্রা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় না। ফলে পুষ্টির প্রায়
সবটাই রয়ে যায়। সরিষার তেল অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল হিসেবে কাজ করে এবং এটি
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এই তেল আপনি যেকোনো রান্নায়
ব্যবহার করতে পারেন।


অলিভ অয়েল


বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্যতম স্বাস্থ্যকর তেল হলো অলিভ অয়েল। এক্সট্রা
ভার্জিন অলিভ অয়েলে রান্না করা ভালো কারণ এটি সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ। এই তেল
প্রক্রিয়াজাত ও পরিশোধিত হয় না, ফলে এর গুণমান অটুট থাকে। এতে থাকে
পর্যাপ্ত মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং কিছু পরিমাণ পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি
অ্যাসিড। এগুলো হার্টের জন্য খুব উপকারী। অলিভ অয়েলে রান্না করলে আঁচ খুব
বেশি বাড়ানো যাবে না। এই তেল বেকিং বা সালাদে ব্যবহারের জন্য সবচেয়ে ভালো।


নারিকেল তেল


নারিকেল তেলে থাকে উচ্চমাত্রার স্যাচুরেটেড ফ্যাট। তাই এর উপকারিতা
নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে বিশেষজ্ঞদের। এই ফ্যাটকে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর
হিসেবে ধরা হয়। তবে কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের মতে, স্যাচুরেটেড ফ্যাট
স্বাস্থ্যকর খাবারগুলোতে অল্প ব্যবহার করে কোলেস্টেরল কমানো যেতে পারে।
তাদের মতে, আমাদের শরীরেও দরকার পড়ে কিছু পরিমাণ স্যাচুরেটেড ফ্যাটের। তাই
এটি সামান্য পরিমাণ ব্যবহার করা যেতে পারে।


সূর্যমুখী তেল


ভিটামিন ই সমৃদ্ধ তেল হলো সূর্যমুখী। এক চা চামচ সূর্যমুখী তেলে প্রায়
আঠাশ শতাংশই থাকে ভিটামিন ই। এতে আলাদা স্বাদ থাকে না, তাই রান্না করা
খাবারে তেলের স্বাদ যোগ হয় না। সূর্যমুখী তেলে থাকে ওমেগা-৬ ফ্যাটি
অ্যাসিড, এটি আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এটি শরীরে সৃষ্ট
প্রদাহ কমাতে কাজ করে।


ভেজিটেবল অয়েল


উদ্ভিদ থেকে পাওয়া তেলকে বলা হয় ভেজিটেবল অয়েল। রান্নার ধরন বুঝে এই
তেলের উপকারিতা বাড়তে বা কমতে পারে। তবে এই তেল প্রক্রিয়াজাত এবং পরিশোধিত
হওয়ার কারণে এর স্বাদ ও পুষ্টি কম হয়। এটি পরিমিত খেলে আমাদের শরীরে ভালো ও
খারাপ কোলেস্টেরলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে। তবে অতিরিক্ত খেলে তা
ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের দেশে যে ভেজিটেবল অয়েলটি বেশি ব্যবহার করা
হয় তা হল সোয়াবিন,  তিল, তিসি ইত্যাদি।


সয়াবিন তেলের চেয়ে সরিষার তেল তুলনামূলক ভালো, অলিভ অয়েল আরো ভালো।
কিন্তু তেল ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। অনেকে মনে করেন, অলিভ অয়েল দিয়ে
রান্না করলে বেশি পুষ্টি হবে। কিন্তু যখন আপনি অলিভ অয়েল বেশি তাপে রান্না
করবেন গুণগত মান নষ্ট হবে।


সরিষার তেল মাখলে যে উপকারগুলো অবশ্যই পাবেন

 স্বাস্থ্য ডেস্ক : এক সময়ে বাংলার ঘরে ঘরে শিশুদের সরিষার তেল মাখিয়ে
রোদে রাখার রেওয়াজ ছিল। ধারণা ছিল, তেল ও সূর্যের ভিটামিন ডি শিশুকে ঠাণ্ডা
থেকে দূরে রাখবে এবং শরীরের হাড়গোড় মজবুত হবে। শুধু তা-ই নয়, বড়রাও নিয়মিত
শরীরে মাখতেন সরিষার তেল।


ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যান্ডেড তেল কিংবা বাজারচলতি লোশনের চেয়ে
সরিষার তেলে আস্থা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। তবে সেই তেলকে অবশ্যই খাঁটি হতে
হবে।


শুধু ত্বকই নয় হৃৎপিণ্ড, পেশি, গাঁট— হাজারো সমস্যার মোকাবিলায় সরিষার
তেলের বিকল্প নেই। তাই কেবল মুড়িমাখা কিংবা আচাড়ে সরিষার তেল নয়, তা কাজে
লাগে নানা রোগ নিরাময়েও। কেমন সে সব? তা জেনে নিন…


• ত্বকে ঔজ্জ্বল্য আনতে প্রতিরাতে সরিষার তেলের সঙ্গে সমপরিমাণ নারিকেল
তেল মিশিয়ে মিনিট দশেক ধরে মাসাজ করুন। তারপর ভাল করে মুখ ধুয়ে ঘুমোতে গেলে
ত্বক যেমন নরম থাকবে, তেমনই উজ্জ্বল হবে।


• রোদে ত্বকে ট্যান পড়া স্বাভাবিক। ডার্ক স্পট, ট্যান বা পিগমেন্টেশন
ঠেকাতে বেসন, দই, লেবুর রসের সঙ্গে সরিষার তেল মিশিয়ে মুখে-ঘাড়ে ১০-১৫
মিনিট লাগিয়ে রাখুন। তারপর ঠাণ্ডা পানি ধুয়ে ফেললে উপকার পাবেন।


• সরিষার তেলে রয়েছে ভিটামিন এ, ই এবং বি কমপ্লেক্স। ফলে এটি রিংকল কমাতে সাহায্য করে।


• সানস্ক্রিনে খুব ঘাম হলে বা কোনভাবে সানস্ক্রিন বাড়িতে না থাকলে অল্প
সরিষার তেল হাতের তালুতে ঘষে মুখে লাগিয়ে নিলে তা সূর্যের ক্ষতিকারক
আলট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করবে। তবে বেশি তেলে ধুলোবালি ধরে
রাখে ত্বক। তাই খেয়াল রাখবেন পরিমাণের প্রতি।


• সরিষার তেল অ্যান্টি ব্যাকটিরিয়াল ও অ্যান্টি ফাঙ্গাল উপাদানে ভরপুর। তাই অ্যালার্জি ও র‌্যাশের হানা প্রতিরোধে সাহায্য করে।


• ত্বকের শুষ্কতা ও চুলকানি রুখতেও সরিষার তেল বিশেষ কাজে আসে।


• সরিষার তেলে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফ্যাটি অ্যাসিড ও ম্যাগনেশিয়াম থাকে,
যা চুলের বৃদ্ধিতে অনেক সাহায্য করে। এ ছাড়া প্রতি রাতে চুলে সরিষার তেল
মালিশ করে লাগালে চুল কালো হবে এবং চুল পাকা রোধ হবে।


• শরীরে মালিশ করলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন এবং ঘর্মগ্রন্থি উদ্দীপিত হয় এবং শরীরের তাপমাত্রা কমে।


সরিষার তেলে অনেক গুণ


প্রাচীন ভারতীয়, রোমান ও গ্রীক সভ্যতার আমল থেকে
সরিষা তেল ব্যবহার হয়ে আসছে। ভারতীয় উপমহাদেশে খৃষ্টপূর্ব তিন হাজার বছর
থেকে সরিষার ব্যবহার চলে আসছে। ইদানীংকালে ভোজ্য তেল হিসাবে সরিষার ব্যবহার
বেড়েছে। বহুদেশে সরিষার আবাদ হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে
বাংলাদেশ, বেলজিয়াম, ব্রাজিল, ক্রোয়েশিয়া, কলম্বিয়া, এসটোনিয়া,
ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গোরি, ভারত, ইটালি, লাটভিয়া,
লিথুনিয়া, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, পোলান্ড, সার্বিয়া, শ্লোভেনিয়া, সুইডেন,
সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।


ভাজি, ভুনি, ডাল, মাছ, মাংস, শাক, সবজি, সালাদ, স্যান্ডইউচ, হ্যাম
বার্গার, হটডগ, ইত্যাদি খাবার তৈরীতে সরিষা ব্যবহার হয়। সরিষা স্বাস্থ্যের
জন্য খুবই উপকারী। সরিষার মধ্যে প্রচুর পরিমান ভিটামিন ও খনিজ লবণ রয়েছে।
সরিষা শক্তি বধর্ক খাদ্য। প্রতি ১০০ গ্রাম সরিষা বীজে ৫০৮ ক্যালারি শক্তি
রয়েছে। এ ছাড়া ও সরিষার মধ্যে আছে পুষ্টিমান সমুদ্ধ আঁশ ও আমিষ। সরিষার
মধ্যে আছে নিয়াসিন (ভিটামিন বি-৩ ) যা রক্তে কোলেষ্ট্রোল কমিয়ে রাখতে
সহায়তা করে। সরিষার মধ্যে ভিটামিন বি- কমপ্লেক্স যেমন ভিটামিন বি-৬,
থায়ামিন, ফোলেট, প্যানটোথেনিক এসিড, রিবোফ্লাভিন ও নিয়াসিন রয়েছে যা শরীরের
স্নায়ুতন্ত্র সতেজ রাখতে সহায়তা করে। সরিষার মধ্যে বিদ্যামান ভিটামিন -ই
চামড়ার উজ্জল্য বৃদ্ধি করে এবং তারুন্য ধরে রাখে। সরিষার মধ্যে কপার ও আয়রন
আছে যা রক্তে হেমেগ্লোবিন উৎপাদনে সহায়তা করে। সরিষার তেল ব্যবহারে ত্বকের
কালো দাগ দূর হয়। চুল পড়া বন্ধ করে। চোখের নীচের কালোদাগ মিটিয়ে দেয়।
বার্ধক্য প্রতিরোধ করে। খস খসে চুলের জন্য শ্যাম্পুর কাজ করে। সুন্দর এবং
আর্কর্ষণীয় ত্বক গঠন করে। সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মি এবং অন্যান্য দূষণ থেকে
রক্ষা করে ত্বকের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। ঘাম গ্রন্থি সতেজ করে শরীর থেকে
বিষাক্ত দ্রব্য নিঃসরণে সহায়তা করে। ত্বকে ফুসকুরি এবং অন্যান্য সংক্রমণ
প্রতিরোধ করে। শীতের সময় ঠোট ফাটা প্রতিরোধ করে। চুল বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
চুলের অকাল পক্কতা প্রতিরোধ করে।


ভোজ্য তেল হিসাবে সরিষা তেল বহুগুণে সমৃদ্ধ। ক্ষুধা বৃদ্ধি করে এবং হজম
শক্তি বাড়ায়। সরিষা তেল ওমেগা- ৩, ওমেগা - ৬ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ স্বাস্থ্য
কর ভোজ্য তেল। হৃদরোগ প্রতিরোধ করে। ক্যান্সারের আশংকা কমায়। এজমা উপশম
করে। ঠান্ডা কাশি প্রতিরোধ করে। গেটে বাত ব্যথা কমায় । ছত্রাক ও
ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। 


সরিষা একসময় বাংলাদেশের প্রধান ভোজ্য তেল ছিল। এখনও বছরে, ৫. ৩২ লক্ষ
হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয় এবং ৫.৯৬ মেট্টিক টন সরিষা বীজ উৎপাদিত হয়
(ডিত্রই ২০১৩)। বাংলাদেশে বাৎসরিক ১৫ লক্ষ টন ভোজ্য তেল প্রয়োজন। এর প্রায়
৮০% বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। আমদানিকৃত তেলের মধ্যে আছে সয়বিন ও পাম
অয়েল।


সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধি করে ভোজ্য তেলের চাহিদা নিজস্ব উৎপাদন থেকেই
মেটানো সম্ভব। আমন ধান কাটার পরে বোরো ধান রোপনের আগে মধ্যবর্তি সময় সরিষার
আবাদ করা যায়। তাছাড়া আশ্বিন কার্তিক মাসে যখন আমন ধান ক্ষেতের পানি
শুকিয়ে যায় তখন ‘জো’ বুঝে ধানের মধ্যে সাথী ফসল হিসাবে সরিষা আবাদ করা যায়।


বর্তমানে বাংলাদেশে ৫৫. ৩০ লক্ষ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয় এবং
৪৭.৯০ লক্ষ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয় (ডিএই ২০১৫ )। আমন ধান কাটার
আগে ‘জো’ বুঝে হেক্টর প্রতি ৮-১০ কেজি সরিষা বীজ ছিটায়ে বোনা যায়। পৌষ
মাসের মাঝা মাঝি সময় সরিষা তুলে ঐ জমিতে বোরো ধান রোপা করা যায়। আমন ধানের
ক্ষেতে সাথী ফসল হিসাবে সরিষার আবাদ করা হলে প্রায় ৫০ লক্ষ টন সরিষা বীজ
উৎপাদনের সম্ভাবনা আছে। সরিষা বীজে ৪০ - ৪২% তেল হয়। এ ভাবে সরিষা উৎপাদন
করলে দেশে ভোজ্য তেলের চাহিদা নিজস্ব উৎপাদন থেকেই মেটানো সম্ভব এবং প্রচুর
বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচানো যাবে।

 


চুল লম্বা ও মজবুত করে সরিষার তেল

 কেবল রান্নাতেই নয়, ঠাণ্ডার চিকিৎসা, ত্বক মসৃণ করা এবং সর্বোপরি চুলের
যত্নে সরিষার তেলের অবদান অনস্বীকার্য। দূষণ ও রাসায়নিক প্রভাবে আমাদের
চুল রুক্ষ হয়ে যায়। সরিষার তেলের নিয়মিত ব্যবহার চুলে নিয়ে আসবে প্রাকৃতিক
জৌলুস। পাশাপাশি কমবে চুল পড়াও।

যেসব কারণে চুলের যত্নে সরিষার তেল ব্যবহার জরুরি  

  • সরিষার
    তেলে আলফা ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে যা চুল সুন্দর ও স্বাস্থ্যজ্বল রাখে। এছাড়া
    আলফা ফ্যাটি অ্যাসিড দারুণ কন্ডিশনারের কাজ করে। ফলে চুল দ্রুত বাড়ে।
  • আজকাল
    চুল পড়া খুবই সাধারণ সমস্যা। এর কারণ চুলের ফলিকল দুর্বল হয়ে নষ্ট হয়ে
    যাওয়া। চুলে নিয়মিত সরিষার তেল ব্যবহার করলে ফলিকল মজবুত হয়ে চুল পড়া বন্ধ
    হবে।
  • সরিষার তেলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, আয়রন, ক্যালসিয়াম,
    ম্যাগনেসিয়ামসহ আরও বিভিন্ন মিনারেল এবং ভিটামিন থাকে। এছাড়াও থাকে জিঙ্ক,
    বিটা ক্যারোটিন ও সেলেনিয়াম যা চুল লম্বা হতে সাহায্য করে।  
  • চুল
    রুক্ষ, শুষ্ক ও নিষ্প্রাণ হয়ে গেলে নিয়মিত মাথার তালুতে সরিষার তেল ম্যাসাজ
    করুন। এর ফলে মাথার তালুতে রক্ত সঞ্চালন ঠিকভাবে হবে এবং চুলের গোড়া মজবুত
    হয়ে চুল পড়া বন্ধ হবে।
  • সরিষার তেলে ওমেগা ৩  ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে যা চুল বড় হতে সাহায্য করে।
  • অ্যান্টি ফাঙ্গাল উপাদান থাকে সরিষার তেলে। এটি খুশকি ও চুলকানি দূর করে।

চুলের যত্নে যেভাবে ব্যবহার করবেন সরিষার তেল

  • টক
    দইয়ের সঙ্গে সরিষার তেল মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগান। তোয়ালে গরম পানিতে
    ভিজিয়ে মাথায় পেঁচিয়ে রাখুন। আধা ঘণ্টা পর ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে
    ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একবার বা দুইবার ব্যবহার করুন।
  • সরিষার তেল,
    লেবুর রস ও ধনিয়া গুঁড়া ভালো ভাবে মেশান। মাস্ক হিসাবে চুলে নিয়মিত মাখুন।
    আধ ঘণ্টা রেখে ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চুল হবে মজবুত ও খুশকিমুক্ত।
  • একটি
    পাকা কলা চটকে নিন। সরিষার তেল ও দই মেশান। মিশ্রণটা ভালোভাবে মাথার
    তালুতে লাগান এবং আধ ঘণ্টা পর সাধারণ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে চুলে কন্ডিশনার
    লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চুল মসৃণ, উজ্জ্বল, মজবুত ও নরম হবে।   
  • একটা
    পাত্রে সরিষার তেল ও অ্যালোভেরা মেশান। মিশ্রণটি চুলে লাগিয়ে রাখুন ৪০
    মিনিট। মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিন চুল। ভালো ফল পেতে সপ্তাহে দুইদিন এই
    পদ্ধতি অবলম্বন করুন। হেয়ার প্যাকটি চুল মসৃণ ও স্বাস্থ্যজ্বল করবে।
    পাশাপাশি বন্ধ করবে চুল পড়া।

তথ্য: এনডিটিভি



সরিষার তেলের যত উপকারিতা

 সরিষার তেলে মোনোস্যাচিউরেটেড ও পলিআনস্যাচিউরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড, ওমেগা
থ্রি ও সিক্স ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। ফলে ইসকেমিক হার্ট ডিসিজ হওয়ার প্রবণতা
কমে যায় প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ। সরিষার তেল শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল লেভেল
কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে।



সরিষার
তেলে থাকে ক্যান্সার প্রতিরোধের গুণ। এই তেলে থাকা লিনোলেনিক অ্যাসিড
ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডে পরিণত হলে তা স্টম্যাক ও কোলন ক্যান্সার
প্রতিরোধে সাহায্য করে।



ঠান্ডার
সমস্যায় সামান্য রসুন বাটা দিয়ে সরিষার তেল মিশিয়ে বুকে ও পিঠে মালিশ করলে
আরাম লাগবে। এছাড়া স্টিমিং পদ্ধতিতে গরম পানির সঙ্গে সরিষার তেলের ঝাঁঝ
নিলেও সর্দি-কাশি থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া যায়।



সরিষার তেল মস্তিষ্কের জন্যও উপকারী। ডিপ্রেশন কাটাতে, স্মৃতিশক্তি ও মনঃসংযোগ বাড়াতে সরষের তেলের ভূমিকা অদ্বিতীয়।



শ্বাসজনিত নানা সমস্যা, হাঁপানিতে সরষের তেল বুকে মাসাজ করলে আরাম পাওয়া যায়।



দাঁতের যন্ত্রণা, হলদেভাব দূর করে সাদা রং ফিরিয়ে আনতে আধ চামচ সরিষার তেল, এক চামচ হলুদ ও আধ চামচ লবণ মিশিয়ে দাঁতে ঘষুন। মুক্তি পাবেন দাঁতের সমস্যা থেকে।



প্রাকৃতিক উদ্দীপক হওয়ার জন্য সরিষার তেল খিদে বাড়ানো ও দ্রুত হজমে সাহায্য করে।



হঠাৎ পাওয়া চোটে পেশি অবশ হয়ে গেলে সরিষার তেল দিয়ে মাসাজ করুন। দ্রুত সংবেদনশীলতা ফিরে পাবেন।



রোজ সরিষার তেল দিয়ে মাসাজ করলে গাঁটের ব্যথা ও আর্থ্রাইটিসের সমস্যা কমে। পেশি সচল হয়।


Saturday, September 10, 2022

ত্বকে সরিষার তেল মাখা কি ভালো?

সরিষার তেলের ঔষধি গুণের জন্য প্রাচীনকাল থেকেই এটি বিভিন্ন
স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অনেকেই ত্বকে এ তেল মাখতে
পছন্দ করেন।

সরিষার তেল কি ত্বকে মাখা ভালো, এ বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. ফারিয়াল হক।
বর্তমানে তিনি বনানী প্রেসক্রিপশন পয়েন্ট, বনানীতে চর্ম ও যৌন বিভাগের
পরামর্শক হিসেবে কর্মরত। এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন
অনুষ্ঠানের ৩৬৪২তম পর্বে সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হয়।


প্রশ্ন : শীতে কি ত্বকে সরিষার তেল মাখা যাবে?


উত্তর : সরিষার তেল মাখবেন না, এ কথা বলব না। তবে সরিষার তেল সূর্যে
স্পর্শকাতর। এ কারণে ত্বক কালো হয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। তবে আমি বলব,
তেলের ক্ষেত্রে বায়ো অয়েল খুব ভালো। এটি ওষুধের দোকানে এখন অহরহ পাওয়া যায়।
বায়ো অয়েল, নারকেল তেল ত্বকের জন্য খুব ভালো। অলিভ অয়েলও ব্যবহার করতে
পারেন।



ত্বক ফর্সা হবে সরিষার তেল ব্যবহারে

 স্বাস্থ্য, ত্বক ও চুল সব ক্ষেত্রেই সরিষার
তেল অসামান্য কাজ করে। নিয়মিত রান্নায় এই তেলের ব্যবহার অত্যন্ত
স্বাস্থ্যসম্মত। ঠিক তেমনি রুপচর্চায় এর কার্যকারিতাও বহুল। ত্বক ও চুলের
যত্নে এই তেল প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এবার তবে জেনে নিন সরিষার
তেল ত্বকের যত্নে কতটা উপকারী-


১. ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে প্রতি রাতে
সরিষা ও নারকেল তেল মিশিয়ে দশ মিনিট ত্বকে ম্যাসাজ করুন। তারপর ভালো করে
মুখ ধুয়ে ঘুমাতে গেলে ত্বক হবে নরম ও উজ্জ্বল।

২. ত্বকের রোদে পোড়া দাগ ঠেকাতেও সরিষার
তেলের জুড়ি মেলা ভার। এজন্য বেসন, দই ও লেবুর রসের সঙ্গে সরিষার তেল মিশিয়ে
মুখে ও ঘাড়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ব্যবহার করুন। এরপর ঠাণ্ডা পানিতে মুখ
ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।


৩. এই তেলে রয়েছে ভিটামিন এ, ই এবং বি কমপ্লেক্স। নিয়মিত সরিষার তেল ব্যবহারে ত্বকে বার্ধ্যক্যের ছাপ পড়ে না। 


৪. সানস্ক্রিন না থাকলেও সমস্যা নেই। এর
পরিবর্তে সামান্য সরিষার তেল ব্যবহার করুন। সূর্যের ক্ষতিকারক
আলট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বককে বাঁচাবে। 


৫. এছাড়াও সরিষার তেলে রয়েছে অ্যান্টি
ব্যাকটিরিয়াল ও অ্যান্টি ফাঙ্গাল উপাদানে ভরপুর। তাই অ্যালার্জি, র‌্যাশ,
চুলকানি ও শুষ্ক ত্বকের জন্য এটি খুবই ভালো একটি উপাদান।


সরিষার তেল মাখলে যে উপকারগুলো অবশ্যই পাবেন

এক সময়ে বাংলার ঘরে ঘরে শিশুদের
সরিষার তেল মাখিয়ে রোদে রাখার রেওয়াজ ছিল। ধারণা ছিল, তেল ও সূর্যের
ভিটামিন ডি শিশুকে ঠাণ্ডা থেকে দূরে রাখবে এবং শরীরের হাড়গোড় মজবুত হবে।
 শুধু তা-ই নয়, বড়রাও নিয়মিত শরীরে মাখতেন সরিষার তেল। 



ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যান্ডেড তেল কিংবা
বাজারচলতি লোশনের চেয়ে সরিষার তেলে আস্থা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। তবে সেই
তেলকে অবশ্যই খাঁটি হতে হবে। 



শুধু ত্বকই নয় হৃৎপিণ্ড, পেশি, গাঁট— হাজারো
সমস্যার মোকাবিলায় সরিষার তেলের বিকল্প নেই। তাই কেবল মুড়িমাখা কিংবা
আচাড়ে সরিষার তেল নয়, তা কাজে লাগে নানা রোগ নিরাময়েও। কেমন সে সব? তা জেনে
নিন...












• ত্বকে ঔজ্জ্বল্য আনতে প্রতিরাতে সরিষার
তেলের সঙ্গে সমপরিমাণ নারিকেল তেল মিশিয়ে মিনিট দশেক ধরে মাসাজ করুন। তারপর
ভাল করে মুখ ধুয়ে ঘুমোতে গেলে ত্বক যেমন নরম থাকবে, তেমনই উজ্জ্বল হবে।



• রোদে ত্বকে ট্যান পড়া স্বাভাবিক। ডার্ক
স্পট, ট্যান বা পিগমেন্টেশন ঠেকাতে বেসন, দই, লেবুর রসের সঙ্গে সরিষার তেল
মিশিয়ে মুখে-ঘাড়ে ১০-১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। তারপর ঠাণ্ডা পানি ধুয়ে ফেললে
উপকার পাবেন।



• সরিষার তেলে রয়েছে ভিটামিন এ, ই এবং বি কমপ্লেক্স। ফলে এটি রিংকল কমাতে সাহায্য করে।



• সানস্ক্রিনে খুব ঘাম হলে বা কোনভাবে
সানস্ক্রিন বাড়িতে না থাকলে অল্প সরিষার তেল হাতের তালুতে ঘষে মুখে লাগিয়ে
নিলে তা সূর্যের ক্ষতিকারক আলট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করবে।
তবে বেশি তেলে ধুলোবালি ধরে রাখে ত্বক। তাই খেয়াল রাখবেন পরিমাণের প্রতি।



• সরিষার তেল অ্যান্টি ব্যাকটিরিয়াল ও অ্যান্টি ফাঙ্গাল উপাদানে ভরপুর। তাই অ্যালার্জি ও র‌্যাশের হানা প্রতিরোধে সাহায্য করে।



• ত্বকের শুষ্কতা ও চুলকানি রুখতেও সরিষার তেল বিশেষ কাজে আসে।



•  সরিষার তেলে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফ্যাটি
অ্যাসিড ও ম্যাগনেশিয়াম থাকে, যা চুলের বৃদ্ধিতে অনেক সাহায্য করে। এ ছাড়া
প্রতি রাতে চুলে সরিষার তেল মালিশ করে লাগালে চুল কালো হবে এবং চুল পাকা
রোধ হবে।



•  শরীরে মালিশ করলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন এবং ঘর্মগ্রন্থি উদ্দীপিত হয় এবং শরীরের তাপমাত্রা কমে।


সরিষার তেল কী ওজন কমায়?

 রোজকার রান্নায় কোন তেল ব্যবহার করা ভালো? সরিষা, সয়াবিন, অলিভ ওয়েল
নাকি অন্য কোনো তেল? এই নিয়ে বিতর্ক আছে। স্বাস্থ্য সচেতন অনেকে আবার তেল
ছাড়া রান্নার দিকেই বেশি ঝোঁকেন।রান্নায় তেল ব্যবহার ওজন বাড়ায় বলে মনে
করা হয়। কিন্তু এমন তেলও আছে যা ওজন কমতেও পারে। অবাক হওয়ার কিছু নেই।
বাঙালির চিরচেনা সরিষার তেলেই আছে এমন কিছু উপাদান যা ওজন কমাতে সাহায্য
করে।সরিষার তেল যেভাবে ওজন কমায় 

পুষ্টিবিদদের মতে সরিষার তেলে এমন কিছু উপাদান আছে যা খাদ্যের বিপাক হার
বাড়াতে সাহায্য করে। এতে উপস্থিত ভিটমিন বি কমপ্লেক্স তাড়াতাড়ি খাবার
হজম করতে সাহায্য করে। আর খাবার দ্রুত হজম হলে ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে।



এছাড়া সরিষার তেলে আছে ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড। এতে
হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্য যেমন ভাল থাকে, তেমন শরীরে ভালো ফ্যাটের পরিমাণ
বাড়ে। এর ফলে অতিরিক্ত ওজন বাড়ে না। নিয়ন্ত্রণে থাকে ওজন।



ওজন নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও অবশ্য সরিষার তেলের আরও গুণ আছে। সরিষার তেল
কোলেস্টেরলের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করে। তবে রান্নায় কোনো তেলই অতিরিক্ত
ব্যবহার করা উচিত হয় বলে সতর্ক করেছেন পুষ্টিবিদরা। তাই রান্নায় সরিষার তেল
পরিমাণ মতো ব্যবহার করা উচিত।

সরিষার তেল কি সয়াবিনের বিকল্প হতে পারবে

প্রতি বছর দেশে গড়ে ২ লাখ টন সরিষার তেল উৎপন্ন হয়। বিপরীতে বছরজুড়ে
ভোজ্যতেলের চাহিদা ২০ লাখ টন। এ মুহূর্তে দেশের সবাই যদি সয়াবিন তেল সরিয়ে
রেখে শুধু সরিষার তেল দিয়ে রান্না শুরু করেন, তাহলে উৎপাদিত সরিষা তেল দিয়ে
মাত্র ৩৭ দিনের চাহিদা মেটানো যাবে।  দেশে যত সরিষা উৎপাদিত হয়, তার পুরোটাই তেল হয়ে বাজারে আসে না। বাংলাদেশ
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ক্রপস উইং শাখার তথ্য অনুযায়ী, বছরওয়ারি ফলন
যাই হোক, বীজ সংরক্ষণসহ সরিষার অন্যান্য ব্যবহার বাদ দিয়ে প্রতি বছর গড়ে ৫
লাখ টন সরিষা ব্যবহার হয় তেল উৎপাদনে।


বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের
তথ্য বলছে, সরিষা বীজে সাধারণত ৪০ থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত তেল
থাকে। এ হিসাবে এক কেজি সরিষা থেকে পাওয়া যায় ৪০০ গ্রাম তেল। ৪০ কেজি বা এক
মণ সরিষা থেকে তেল মেলে ১৬ কেজি।


অর্থাৎ প্রতি বছর ৫ লাখ টন সরিষা থেকে গড়ে ২ লাখ টন তেল পাওয়া যায়। বিপরীতে সারা বছর দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা ২০ লাখ টন।



ঘাটতি পূরণে সয়াবিনের বিকল্প হিসেবে ভোক্তারা যদি তাদের রান্নার পুরো
চাহিদা সরিষা তেল দিয়ে মেটাতে চায়, তাহলে এখন উৎপাদিত সরিষা তেল দিয়ে মাত্র
৩৭ দিনের চাহিদা মিটতে পারে।


কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে ৫ লাখ
৮৮ হাজার ৭৩৭ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। হেক্টরে ১.৩৬ টন গড় ফলন হিসাবে
৭ লাখ ৯৯ হাজার ৮৪১ টন সরিষা উৎপন্ন হয়।


বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, বিশ্বে যত তেল ব্যবহার হয়, তার ৬০
শতাংশের জোগান দেয় সয়াবিন, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি করোনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন
যুদ্ধের প্রভাবে এখন সয়াবিনের সরবরাহে মারাত্মক টান পড়েছে।


দেশে দৈনিক ভোজ্যতেলের চাহিদা ৫ হাজার ৪৭৯ টন। এর ৯০ শতাংশের জোগান আসে
আমদানীকৃত সয়াবিন থেকে। বাকিটা সরিষা, সানফ্লাওয়ার অয়েল, রাইস ব্র্যান
অয়েলসহ অন্যান্য উৎস থেকে আসে। এই বিকল্পগুলো থেকে সম্মিলিতভাবে বছরজুড়ে
তেল পাওয়া যায় মাত্র ২ লাখ ৩০ হাজার টন।


কয়েক দশক আগেও দেশে সরিষার তেল ছিল রান্নায় বহুল ব্যবহৃত ভোজ্যতেল। এরপর ধীরে ধীরে সেই রান্নাঘরে দখল নেয় সয়াবিন তেল।




মূলত বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজারনীতি এবং সরিষার তেলের তুলনায়
দাম কম হওয়ার কারণে দেশের ৯৫ ভাগ ক্রেতা এখন সয়াবিন তেলের ভোক্তা হয়ে
উঠেছে। অন্যদিকে দাম বেশি হওয়ায় সরিষা তেল পরিণত হয়েছে শৌখিন পণ্যে।


কয়েক মাস ধরে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বাজারে সয়াবিনের দাম চড়ছে। সেই
সঙ্গে দেখা দিয়েছে সরবরাহে ঘাটতি। পরিস্থিতির এতটাই অবনতি ঘটেছে যে, বাড়তি
দাম দিয়েও ধারে-কাছে মিলছে না সয়াবিন। এর বিপরীতে পরিমাণে কম হলেও দেশের
সর্বত্র মিলছে সরিষার তেল। আবার কাঠের ঘানি বা মেশিনে ভাঙা সরিষার তেল খোলা
বিক্রির পাশাপাশি করপোরেট কোম্পানিগুলোর মাধ্যমেও সারা দেশে বাজারজাত
হচ্ছে। সুবিধামতো মিলছে ১০০ গ্রাম, ২৫০ গ্রাম, ৫০০ গ্রাম, ১ লিটার ও পাঁচ
লিটারের বোতলেও।


এ অবস্থায় অনেক ভোক্তা বিকল্প হিসেবে আবারও সরিষার তেলে ফেরার কথা
ভাবছেন, কিন্তু সয়াবিনের তাপ এসে লেগেছে সরিষার তেলের বাজারেও। সেখানেও
দামে ঊর্ধ্বগতি। একসঙ্গে অনেক ক্রেতা এই তেল কিনতে শুরু করায় এই পরিস্থিতি
তৈরি হয়েছে।


বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজারে ছাড়া আগের সব স্টক ইতোমধ্যে ফুরিয়ে
এসেছে। তাদের ঘন ঘন ছাড়তে হচ্ছে নতুন স্টক। আগে কোম্পানিভেদে প্রতি লিটার
বোতলজাত সরিষার তেলের দাম রাখা হতো ২৮০ থেকে ২৯০ টাকা। এখন নতুন মূল্য
উঠেছে ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা।


শুধু বড় কোম্পানিই নয়, দাম বেড়েছে স্থানীয়ভাবে ঘানিতে ভাঙা সরিষার তেলেরও।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাজারে সয়াবিনের অস্থিরতা তৈরির আগে প্রতি লিটার
খোলা সরিষার তেলের দাম ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। রোজার আগে এ দাম
বেড়ে ২২০ থেকে ২৪০ টাকায় গড়ায়।


ঘানি ভাঙা তেল রোজার আগে ছিল ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা পর্যন্ত। এখন সয়াবিনের
মারাত্মক ঘাটতিতে প্রচণ্ড রকম চাপ পড়েছে সব ধরনের সরিষার তেলের ওপর। এতে
করে আরেক দফা দাম বাড়ে ঘানিতে ভাঙা সরিষারও। বর্তমানে এই তেল স্থানভেদে ৩২০
থেকে ৩৬০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে।


বিক্রেতারা বলছেন, দেশে সয়াবিন তেলের বাজার অস্থির হওয়ার আগে তারা
দোকানে সরিষার তেল রাখতেন শৌখিন পণ্য হিসেবে। সাধারণত আচার, চাটনি তৈরিতে
এর ব্যবহার হতো। এ ছাড়া ভর্তা খাওয়া বা মুড়ি মাখার জন্য আগ্রহী ক্রেতাই
শুধু সরিষার তেল কিনতেন। ফলে সরিষার তেল উৎপাদন এবং সরবরাহ খুব কম হতো।


তারা বলছেন, যেটুকু সরবরাহ থাকত, বাজারে তার স্টক শেষ হতে সপ্তাহ থেকে
মাস লেগে যেত। এখন ক্রেতারা আসছেন, সরিষার তেল চাচ্ছেন, কিন্তু স্টক ফুরিয়ে
যাওয়ায় কিনতে পারছেন না। অনেকে এখন ঘানিতে ভাঙা তেলের খোঁজ করছেন। বাড়তি
চাহিদার কারণে কৃষক পর্যায়েও বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে সরিষার দাম।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মৌসুমের শুরুতেও প্রতি মণ সরিষার দাম ছিল মানভেদে ২
হাজার টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। এখন সেই সরিষা বাজারে বা কৃষক
পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়।


মূলত সরিষার দাম বাড়ায় তেলের দামও বেড়েছে। আবার সরিষা কিনে মিলাররাও তেল
বিক্রিতে বাড়তি মুনাফা করার চেষ্টা করছেন। এ কারণেও সরিষার তেলের দাম
বেড়েছে।


বাজারে বর্তমানে রাঁধুনি, তীর, ফ্রেশ, সুরেশ, পুষ্টি, রূপচাঁদা ছাড়াও
কমপক্ষে ২০টিরও বেশি ব্র্যান্ড ও নন ব্র্যান্ডের সরিষার তেল বিক্রি হচ্ছে।


এ বিষয়ে তীর ব্র্যান্ডের সরিষা তেল বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান সিটি
গ্রুপের পরিচালক (অর্থ) বিশ্বজিৎ সাহা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি খুব
সিম্পল। চাহিদা বাড়লে দাম বাড়বে। এটাই স্বাভাবিক।


‘তেলের কাঁচামাল হলো বীজ, কিন্তু এবার বাড়তি চাহিদার কারণে সরিষার বীজের দামও বেড়েছে। সরিষা কেনায় বেশি খরচ পড়ায় দামও বাড়াতে হয়েছে।’


সরিষা চাষ বাড়ানো সম্ভব?


সরিষা দেশের সর্বত্র চাষ হলেও ঢাকা, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, ফরিদপুর,
জামালপুর, কিশোরগঞ্জ, বরিশাল, যশোর, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, পাবনা, রাজশাহী ও
রংপুর জেলায় এটি বেশি চাষ হয়।


দেশের তেলবীজ আবাদি জমির প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকায় সরিষা চাষ করা হয়। এরপরও ২০১৯ সালে প্রায় দশমিক ৪৬ লাখ টন সরিষা আমদানি করা হয়েছে।


বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা দাবি করেন, এ
ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরিষা আবাদের পরিমাণ বাড়াতে হবে। এ জন্য
এখনই প্রয়োজন তেল ফসলের চাষাবাদ বৃদ্ধি করে উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেয়া।


বিনার উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং তেলজাতীয়
ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের উপপ্রকল্প সমন্বয়ক ড. রেজা মোহাম্মদ ইমনের
দাবি, দেশের ২২ লাখ হেক্টর পতিত (দুই ফসলের মাঝের) জমিতে যদি বিনাসরিষা-৪ ও
বিনাসরিষা-৯ আবাদ করা যায়, তাহলে বছরে ১৭ হাজার কোটি টাকার তেল আমদানি
সাশ্রয় করা সম্ভব।


তিনি আরও মনে করেন, প্রতি বছর ৩ দশমিক ৫ লাখ টন উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলে
২০৩০ সালে মোট সরিষা উৎপাদন হবে প্রায় ৪৬ দশমিক ৬৩ লাখ টন, যা থেকে প্রায়
১৬ দশমিক ৩২ লাখ টন তেল পাওয়া সম্ভব। এতে ১৭ হাজার কোটি টাকার যে তেল
আমদানি করতে হয়, তা আর আমদানি করতে হবে না। এ জন্য অবশ্যই দুই ফসলি জমিকে
তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করতে হবে বিনাসরিষার মাধ্যমে।


সরিষার তেল : খাবেন না মাখবেন?

 শুধু ঝাঁজেই নয়, মুখের রসনা বাড়াতে খাবারের স্বাদ রাঙাতে, ত্বকের যত্নে,
এমনকি গাঁটের ব্যথা কমাতে সরিষার তেলের তুলনা নেই। সরষে ইলিশ থেকে শুরু
করে মুড়িমাখা ও শরীরের সব জায়গায় মালিশ করা যায় সরিষার তেল। জেনে নিন কী কী
উপকার মেলে এই তেল থেকে-



মগজ শানাতে




চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে, সরিষার তেল মস্তিষ্কের জন্য ভীষণ উপকারী।
বিশেষ করে অবসাদ কাটাতে, স্মৃতিশক্তি আর মনঃসংযোগ বাড়াতে এই তেল যথেষ্ট
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই আজকে থেকে রান্নাটা সরিষার তেলেই শুরু
করুন।



খিদে বাড়াতে



খিদে বাড়াতে সরিষার তেলের কোনো তুলনা নেই। তাই ক্ষুধামন্দায় ভুগলে রান্নায় ব্যবহার করুন এ তেল।



হাড়ক্ষয় রোধে



সরিষার তেল মালিশে হাড়ক্ষয় রোধ হবে। ঈষদুষ্ণ তেল মাখলে কমবে আরথ্রাইটিস ও।



ক্যানসার প্রতিরোধে



বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা জানিয়েছে, ক্যানসার প্রতিরোধের অনেক গুণ সরিষার
তেলে রয়েছে | এই তেলে থাকা লিনলেনিক অ্যাসিড ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডে
পরিণত হলে তা স্টমাক আর কোলন ক্যানসার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে |



ব্যথা নাশে



আচমকা চোট পেয়ে হাত-পায়ের পেশি অবশ হয়ে গেলে সরিষার তেল হালকা গরম করে ব্যথার উপর মালিশ করুন| দ্রুত সাড়া ফিরে পাবেন।



হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখতে



সরিষার তেলে প্রচুর পরিমাণে মনো-স্যাচুরেটেড ও পলি-আনস্যাচুরেটেড
ফ্যাটি অ্যাসিড, ওমেগা থ্রি ও সিক্স ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে| তাই রান্নায় রোজ
সরিষার তেল খেলে হার্ট ডিজিজ হওয়ার প্রবণতা প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যায়|
এছাড়াও, সরিষার তেল শরীরের খারাপ কোলেস্টরেল-এর পরিমাণ কমিয়ে ভালো
কোলেস্টেরল-এর মাত্রা বাড়িয়ে দেয়| এতে হার্ট ভালো থাকে| চট করে হার্টের
অসুখে ভোগার সম্ভাবনাও কমে যায়|



সর্দি কাশি কমাতে



সর্দি কাশি কমাতে সরিষার তেলে রসুন থেঁতো করে ফুটিয়ে নিন| ঈষদুষ্ণ
অবস্থায় বুকে-পিঠে মালিশ করুন| রোজ রাতে শোয়ার সময় এই টোটকা ব্যবহার করলে
বুকে জমা কফ উঠে আসবে।



প্রাকৃতিক সানস্ক্রিন হিসেবে



কী দরকার বাজারের ক্ষতিকারক সানস্ক্রিন ব্যবহার করার? হাতের কাছে সরিষার তেল থাকলে সানস্কিন হিসেবে নিশ্চিতে ব্যবহার করে ফেলুন।



ত্বকের যত্নে



সরিষার তেলে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল আর এন্টি ফাংগাল উপাদান এলার্জি,
রাশ কমাতে সাহায্য করে| শীতে অনেকেই তাই সরষের তেল মেখে স্নান করতে পছন্দ
করেন | এছাড়াও এই তেল মাখলে ত্বকের ময়েশ্চার বজায় থাকে| ত্বক ফাটে কম।



কেএইচ/এমকে


সরিষার তেলের জানা-অজানা উপকারিতা

 ওজন কমাতে  আমরা খাবারের দিকে গুরুত্ব দিলেও কোন তেল দিয়ে রান্না করা
হচ্ছে সে বিষয়টি এড়িয়ে যায় অনেক সময়। আমরা যে তেলে রান্না করি তাতে
স্যাচুরেটেড এবং আনস্যাচুরেটেড, দু ধরনের ফ্যাট থাকে। স্যাচুরেটেড ফ্যাট
আমাদের শরীরের জন্য খারাপ হলেও, আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট কিন্তু শরীরের
উপকার করে। সেই হিসেবে শরীরের ভালোর জন্য সরিষা তেল খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন
বিশেষজ্ঞরা।


সরিষার তেলের বদলে রিফাইন্ড ভেজেটেবল অয়েল ব্যবহার করেন অনেকই। কিন্তু
বাঙালির রান্নাঘরে সরিষা তেলের ঝাঁঝই মানানসই। শুধু তাই না পুষ্টিবিদরাও
সরিষার তেলের গুণের কথা বলছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘানি থেকে আনা সরিষার তেল
স্বাস্থ্য এবং ত্বকের জন্যে খুবই ভালো।


বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হল করোনারি হার্ট ডিজিজ । আর
রান্নার তেলের কারণে এই হার্টের রোগের ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়ে। একটি সমীক্ষায়
দেখা গেছে, সরিষার তেল মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত যা কোলেস্টেরলের
মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করতে এবং করোনারি হার্ট ডিজিজের ঝুঁকি হ্রাস
করতে পারে।


যেভাবে সরিষার তেল ওজন কমায়?


সরিষার তেলের রান্না হার্ট, হাড়, হজম এবং স্নায়ুতন্ত্রের জন্য
স্বাস্থ্যকর সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। এতে মনোস্যাচুরেটেড এবং
পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। এই তেল ডিপ ফ্রাই, খাবার গরম এবং
খাবারে অনন্য স্বাদ আনতে কার্যকর। যারা পেটের সমস্যায় ভোগেন বা যাদের হজমে
সমস্যা রয়েছে তাদের প্রতিদিনের রান্নায় সরিষার তেল ব্যবহার করা উচিত। এই
তেল হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। আর দ্রুত খাবার হজম হলে ওজন নিয়ন্ত্রণে
থাকে।


ফ্যাটের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে সরিষার তেল


সরিষার তেলের কড়া ঝাঁঝের জন্য আজকাল অনেকে ব্যবহার করতে চান না। কিন্তু
এতে আছে ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড। স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড
কেবল খাবারের স্বাদই উন্নত করে না, রক্তে চর্বির মাত্রাও হ্রাস করে।


সরিষার তেলের উপকারিতা


১. সরিষার তেলে রয়েছে মনোস্যাচুরেটেড এবং পলিঅনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী।


২.এ ছাড়া এটি ভালো কোলেস্টেরল বৃদ্ধিতেও সহায়ক।


৩.সরিষা তেলের ক্যান্সার বিরোধী বৈশিষ্ট্যোর কারণে তা ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে।


৪. সরিষা তেল জয়েন্টের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।


৫.ত্বকের যত্নেও সরিষা তেল অতুলনীয়।


যেকোন ধরণের রান্নায় আস্তে আস্তে সরিষা তেল ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলুন।  তবে ভাজা জাতীয় খাবারে সরিষার তেল এড়িয়ে চলা উচিত।


সরিষার তেলের ১৩টি উপকারিতা যা অনেকেরই অজানা

 বাজারে সয়াবিন তেলের আবির্ভাবের পর আমরা অনেকেই সরিষার তেলের উপকারিতার
কথা ভুলে গেছি। অথচ এক সময় সরিষার তেলই ছিল আমাদের রান্নার প্রধান উপকরণ।
এখনও সরিষা বা সরিষার তেল প্রতিটি বাড়ির রান্না ঘরেই রয়েছে যা – রান্নায়,
ভর্তা বানাতে এমনকি মালিশের কাজেও ব্যবহৃত হয়। ভারতীয় উপমহাদেশে এই তেলের
ব্যবহার অতি প্রাচীন। ৩০০০ খৃষ্টপূর্ব আগে থেকে ভারতে চিকিৎসা শাস্ত্রে
সরিষার তেল ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সরিষা দানা পিষে সরিষার তেল তৈরি করা হয়। এর
রঙ ঘন লালচে হলুদ এবং এর গন্ধ ঝাঁঝালো।


খাঁটি ঘানি ভাঙ্গা সরিষার তেল স্বাস্থ্য উপকারি। সরিষার তেল অনেক বছর
ধরেই খারাপ তেলের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল কিন্তু এখন এটা অনেকেই ব্যবহার
করছেন। এমনকি নিউ ইয়র্কের খুব জনপ্রিয় কিছু রেস্টুরেন্টের শেফ এই তেল ব্যবহার করছেন।


সরিষার তেলে কি আছে?


সরিষার তেল মনো আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট (Monounsaturated fat) এবং প্রদাহ
বিরোধী (anti-inflammatory) উপাদানে সমৃদ্ধ। এছাড়াও সরিষার তেল মনো
আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট (Monounsaturated fat) ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটি
এসিড, এন্টি অক্সিডেন্ট এবং বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থে ভরপুর। এতে খুব
অল্প পরিমানে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা সম্পৃক্ত চর্বি রয়েছে।


১০০ গ্রাম সরিষার তেলে আছেঃ


স্যাচুরেটেড ফ্যাট                  ১২ গ্রাম


পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট    ২১ গ্রাম


মনো আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট   ৫৯ গ্রাম


কিভাবে এই তেল তৈরি হয়?


এই তেল ২ উপায়ে তৈরি হয়


১। কাচ্চি ঘানি (Cold pressed)


এই প্রক্রিয়ায় সরিষার দানা সরাসরি পিষে এ থেকে তেল বের করা হয় এই তেল হয়
খুব ঘন এবং ঝাঁঝযুক্ত। এই তেল সবচেয়ে বেশী স্বাস্থ্য উপকারী। এটা হজম
শক্তি বাড়ায়, হৃদপিন্ড ভাল রাখে, চুল গজানোয় সাহায্য করে এবং শরীরের মাংশ
শক্ত হয়ে যাওয়া (muscle stiffness) রোধ করে।

২। এসেনশিয়াল অয়েল (Mustard Essential oil)


এই পদ্ধতিতে পেষা সরিষার দানার সাথে পানি, ভিনেগার অথবা অন্য কোন তরল
মিশিয়ে বানানো হয়। এই তেল হয় অনেক পাতলা। সরিষার দানায় মাইরোসিনেইস
(Myrosinase) এবং সিনিগ্রিন (Sinigrin) নামে দ’টি উপাদান আছে। পানিতে
ভিজিয়ে রাখার ফলে এই দু’টি উপাদান বিষাক্ত কম্পাউন্ড সৃষ্টি করে। তাই এই
ধরণের তেল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।



সরিষার তেলের ১৩টি উপকারিতা


১। হজম প্রক্রিয়া


সরিষার তেল হজম প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে এবং মেটাবলিক রেট বৃদ্ধি করে।


২। সরিষার তেল ব্যথা কমায়


সরিষার তেলে থাকা প্রদাহ বিরোধী (Anti-inflammatory) উপাদান ব্যথা কমাতে
সাহায্য করে। হাঁটুর ব্যথা, অন্যান্য জয়েন্টের ব্যথা, আর্থ্রাইটিস (বাত)
এবং রিউম্যাটিক এর ব্যথাও দূর করে।


৩। ক্যান্সার রোধ


এই তেলে থাকা গ্লুকোসিনোলেট (Glucosinolate) নামক উপাদান মলাশয় ক্যান্সার এবং অন্ত্রের ক্যান্সার রোধে সাহায্য করে।


৪। সরিষার তেল ফুসফুস পরিষ্কার রাখে


সরিষার তেল এক ধরণের ডিকঞ্জেস্টেন্ট বা শ্বাসতন্ত্র পরিষ্কারক। এই তেলের সাথে রসুন মিশিয়ে বুকে ও পিঠে লাগালে কফজনিত সমস্যার সমাধান হয়।


এই মুহূর্তের ট্রেন্ডিং আর্টিকেলগুলো






৫। হৃদিপিন্ড সুস্থ রাখে সরিষার তেল


সরিষার তেলে থাকা মনো আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট
ভাল কোলেস্টেরল বৃদ্ধি ক’রে হৃদরোগের ঝুঁকি ৭০% কমিয়ে আনতে পারে।


৬। এজমা রোগে সরিষার তেল


এজমা এটাক (Asthma attack) হলে সরিষার তেল বুকে ঘষলে শ্বাস নেয়ার ক্ষমতা
বেড়ে যায়। সবসময় এর ব্যবহার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।


৭। ত্বক ও চুলের যত্নে সরিষার তেল


শীতের সময় এই তেল ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বকের শুষ্কতা দূর হয় এবং শরীর
গরম থাকে। এই তেলের ব্যাক্টেরিয়া এবং ফাঙ্গাস বিরোধী গুণাগুণ ত্বক ও চুলকে
উজ্জ্বল করে তুলে। এই তেল ব্যবহার করলে ত্বক কখনই কালো হয় না বরং ত্বকের
টোনের উন্নতি হয়।


৮। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে


রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে নাভিতে কয়েক ফোঁটা সরিষার তেল দিলে সুফল পাওয়া যায়।


৯। স্মরণশক্তি বৃদ্ধি ও চেতনার উন্নয়নে


সরিষার তেল স্মরণশক্তি বৃদ্ধি ও চেতনার উন্নয়নে সহায়তা করে।


১০। মাসিকের ব্যথা


মেয়েদের মাসিকের ব্যথা এবং গ্যাস ও বদহজম জনিত পেটের ব্যথায় সরিষার তেল পেটে মালিশ করলে সুফল পাওয়া যায়।


১১। পোকামাকড় এবং মশা তাড়ানো


পোকামাকড় এবং মশা তাড়ানোর জন্য ঔষধ হিসাবে সরিষার তেল ব্যবহৃত হয়। এর গন্ধে পোকামাকড় কাছে ঘেঁষে না।


১২। ওজন কমাতে সরিষার তেল


রিবোফ্ল্যাভিন (Riboflavin) ও নায়াসিন (Niacin) সমৃদ্ধ সরিষার তেল শরীরে মেটাবলিজম বাড়িয়ে ওজন কমাতে সাহায্য করে।





১৩। দাঁতের স্বাস্থ্য রক্ষায়


সুস্থ দাঁত ও জিঞ্জাভাইটিস ও পেরিওডন্টাইটিস রোগ প্রতিরোধে সরিষার তেল সহায়ক।


১/২ চা চামচ সরিষার তেল + ১ চা চামচ হলুদের গুঁড়া + ১/২ চা চামচ লবন মিশিয়ে দাঁত ও মাড়িতে হালকা করে দু’বেলা ঘষুন।


সতর্কতা


সরিষার তেলে থাকা ইরিউসিক এসিড (erucic acid) -এর কারনে রান্নার কাজে এই
তেল যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপে ব্যবহার নিষিদ্ধ। তবে এটা বাহ্যিক
ব্যবহার যেমন মালিশের জন্য এসব দেশে নিষিদ্ধ নয়।


শেষ কথা


বাজারে পাওয়া সব তেলের মধ্যে সরিষার তেল সব থেকে বেশী স্বাস্থ্যকর। তবে
এটা হতে হবে খাঁটি ঘানি ভাঙ্গা সরিষার তেল বা কোল্ড প্রেসড (cold pressed)।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের দেশগুলিতে নিষিদ্ধ হলেও সরিষার
তেল অন্যান্য দেশ বিশেষ করে এশিয়ার সর্বত্র রান্নার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। ইদানিং অনেকেই সয়াবিন তেলের পরিবর্তে খাঁটি
ঘানি ভাঙ্গা সরিষার তেল ব্যবহার করা শুরু করেছেন।


রোগ প্রতিরোধ করবে সরিষার তেল

 আবহমান কাল থেকেই বাংলাদেশে সরিষার চাষ হয়। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ
রান্নায়, ঠাণ্ডা সারাতে, নবজাতকের যত্নে সরিষার তেল ব্যবহার করে থাকেন। আগে
নিজ বাড়িতে সরিষার তেলের ঘানি ভাঙালেও এখন আর তেমনটা চোখে পড়ে না।
বর্তমানে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। শরীরের যত্নে
বাজারে হাতের কাছেই পাওয়া যায় নজরকাড়া ঘ্রাণের দেশি-বিদেশি লোশন।

তবে বাজারের বিভিন্ন ধরনের লোশনের ভিড়ে টিকে আছে গ্রামবাংলার মানুষের
কাছে প্রিয় সরিষার তেল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সরিষার তেল বিভিন্ন
ধরনের রোগ-প্রতিরোধে সাহায্যে করে। কিন্তু এই বিষয়টি আমাদের অনেকেরই
অজানা।



সরিষার তেল কীভাবে রোগ-প্রতিরোধে সাহায্য করবে এ বিষয়ে
জানিয়েছে জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই।যুগান্তর পাঠকের জন্য
থাকছে সরিষার তেল কীভাবে বিভিন্ন রোগ-প্রতিরোধে সাহায্য করে।



আসুন জেনে নেই সরিষার তেলে বিভিন্ন গুণাগুণ সম্পর্কে।



ঠাণ্ডা-কাশি কমাতে



সুপ্রাচীন কাল থেকে ঠাণ্ডা-কাশি সারেতে সরিষার তেলের জুড়ি নেই। সরিষার
তেল শ্বাসতন্ত্রের বাধা পরিষ্কার করে; অ্যাসমা ও সাইনাসের সমস্যা কমায়।



ব্যথা কমায়



ব্যথা কমাতেও সাহায্যে করে সরিষার তেল। সরিষার তেল গাঁটের ব্যথা ও ফোলা
কমাতে ভালো কাজ করে।এছাড়া সরিষার তেলে থাকা প্রদাহরোধী উপাদানের জন্য এটি
রিউমাটিসজম ও আরথ্রাইটিস কমায়।



মাড়ির শক্তি বাড়াতে



মাড়ির শক্তি বাড়াতে সরিষার তেল বিশেষভাবে কাজ করে।এটি প্লাক কমাতে ও দাঁত ব্যথা কমাতেও কাজ করে।



হৃৎপিণ্ডের রোগ-প্রতিরোধ করে



সরিষার তেলে ওমেগা তিন ও ওমেগা ছয় ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। এটি হৃৎপিণ্ডকে
স্বাস্থ্যকর রাখে। তাই হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে রান্নায় নিয়মিত
সরিষার তেল ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া শরীরের বাজে কোলেস্টেরল সরিষার তেল
কাজ করে।



ক্যানসার প্রতিরোধে



সরিষার তেল পাকস্থলীর ক্যানসার ও কোলোন ক্যানসার প্রতিরোধে উপকারী। তেলের মধ্যে থাকা গ্লুকোসাইনোলেট ক্যানসার ও টিউমার প্রতিরোধ করে।


চুলে সরিষার তেল ব্যবহারে যেসব ভুল করা যাবে না

 উপমহাদেশে প্রাচীনকাল
থেকে চুলে সরিষার তেল ব্যবহার হয়ে আসছে। এ তেল ব্যবহারে রয়েছে অনেক উপকার।
তবে সঠিক নিয়মে এ তেল ব্যবহার করতে হবে।

চুলের যত্নে সরিষার তেল প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে। বিশেষ করে
চুলে জট পড়া রুক্ষ চুলের রাশিকে নরম ও মোলায়েম করে তোলে এই তেল। ডিপ
কন্ডিশনিং করে বলে সরিষার তেলের নিয়মিত ব্যবহারের ফলে চুল হয়ে ওঠে উজ্জ্বল ও
নরম।

ডগাচেরা চুল ও খুসকির সমস্যাও দূর করে সরিষার তেল। অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল
ও অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্যের জন্য সরিষার তেলের ফলে খুসকিও কমে যায়।

এতো উপকারিতা সত্ত্বেও ও সরিষার তেলই চুলের জন্য চরম অপকারী হয়ে উঠতে
পারে। ঠিকমতো ব্যবহার না করা হলে সরিষার তেলই চুলের জন্য হিতে বিপরীত হয়ে
উঠতে পারে।

সরিষার তেল ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করে নিন। তাহলে বুঝতে পারবেন
সরিষার তেল থেকে আপনার ত্বকে কোনো সংক্রমণ হতে পারে কিনা। পার্শ্ব
প্রতিক্রিয়া সম্বন্ধে নিশ্চিত হয়ে তবেই চুলে সরিষার তেল দিন।

অয়েলি স্ক্যাল্প বা তেলতেলে মাথায় সর্ষের তেল একদমই দেবেন না। তাহলে
ত্বকের পোরস আটকে গিয়ে চুলের হাইড্রেশন কমে যেতে পারে।

অনেকেই রাতভর তেল মেখে থাকেন। সরিষার তেল সারারাত দিয়ে রাখবেন না। এতে
স্ক্যাল্প খুব চিটচিটে হয়ে পড়বে। শ্যাম্পু করার পরও স্ক্যাল্প ভালো
পরিষ্কার হবে না। তাই গোসলের আধঘণ্টা আগে চুলে সরিষার তেল মাখলেই যথেষ্ট।

সরিষার তেল সবসময় গরম করে চুলে দিন। গরম করলে সরিষার তেল অনেক পাতলা ও
হালকা হয়ে যায়। ফলে চুল সহজেই সরিষার তেল শোষণ করে নেয় এবং প্রয়োজনীয়
পুষ্টি লাভ করে।


যেভাবে বুঝবেন সরিষার তেল আসল না নকল

 রান্নার ক্ষেত্রে অনেকেই সয়াবিন তেল ব্যবহার করে থাকেন। তবে
এখন অনেকেই অলিভ ওয়েল ব্যবহার করেন। আবার অনেকে এখনও সরিষার তেলই ব্যবহার
করেন। তারা দাবি করেন, এতে খাবারে তীব্র সুভাস বা স্বাদ বাড়িয়ে দেয়। তবে
সরিষার তেল রান্নায় স্বাদের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সরিষার তেল স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং পাশাপাশি এটি ত্বক এবং চুলের জন্যও খুব উপকারী।


তেলে রয়েছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল উপাদান, যা বিভিন্ন
ক্ষতিকর জীবাণুকে ধ্বংস করতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে সরিষার তেল বিদ্যমান
ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের বিভিন্ন ব্যথা, যন্ত্রণায় উপশম ঘটাতে
সাহায্য করে।

বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে, শরীরের ক্যানসার কোষগুলো
দ্রুত ধ্বংস করতে এ তেলের ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি এটিতে মোনোস্যাচুরেটেড
ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদপিণ্ডের জন্যও দারুণ উপকারী। যা বিভিন্ন হৃদরোগের ঝুঁকি
কমায়। এ ছাড়া শীতের মৌসুমে ঠান্ডা লাগার হাত থেকে শরীরকে রক্ষাও করে সরিষার
তেল।
তবে
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সরিষার তেল কেনার সময় অবশ্যই পরীক্ষা করে কিনতে হবে
এটি আসল না নকল। তবে কীভাবে জানবেন এটি আসল না নকল? আসুন জেনে নেওয়া যাক।

সর্ষের
তেল দোকান থেকে কেনার পর ২ থেকে ৩ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিন। এরপর যদি দেখেন,
সরিষার তেলের উপর সাদা রঙের কোনো আস্তরণ দেখা দিয়েছে, তাহলে বুঝে নিতে হবে
সেটি নকল তেল।

কেনার সময় কয়েক ফোঁটা হাতের তালুতে নিয়ে ভালোভাবে
ঘষুন। যদি কোনো গন্ধ পান বা হাতের রঙ বদলে যায়, তাহলে বুঝবেন সেটিতে অন্য
কোনো উপাদান মেশানো রয়েছে। সেই সরিষার তেল ১০০ শতাংশ আসল নয়।

সূত্র: এবিপি আনন্দ


Friday, September 9, 2022

সয়াবিন নাকি সরিষার তেল- কোনটি ভালো

 আমাদের দেশে রান্নার কাজে এক সময় সরিষার তেল সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হতো।
এখন সেই স্থান দখল করে নিয়েছে সয়াবিন তেল। এর বাইরে সূর্যমুখী তেল বা অলিভ
অয়েলের ব্যবহার রয়েছে। কিন্তু এগুলো উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের
নাগালের বাইরে।


অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে- কোন তেল ব্যবহারে উপকার বেশি বা পুষ্টি
বেশি পাওয়া যায়? এ বিষয়ে জানতে ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও
হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন বিভাগের চীফ কনসালটেন্ট, পুষ্টিবিদ
সামিরা খালেক সুকৃতির সঙ্গে কথা হয় রাইজিংবিডির। 







ডা. সামিরা বলেন, ‘আমাদের দেশে যত ধরনের ভোজ্যতেল ব্যবহার হয় তার মধ্যে
সবচেয়ে ভালো সরিষার তেল। সয়াবিন তেলে অনেক সময় অসাধু ব্যবসায়ীরা পাম অয়েলসহ
বিভিন্ন কিছু মেশায়। অধিক মুনাফার জন্য তারা এ কাজ করে। কিন্তু সরিষার
তেলে সে সুযোগ নেই। কারণ সরিষার তেলে এমন কিছু মেশালে ভালোভাবে মিক্সড হয়
না। এ কারণে সরিষার তেল তুলনামূলক ভালো। সানফ্লাওয়ার অয়েলের সঙ্গেও অন্য
তেল মেশানো যায়।’


ক্যাস্টর অয়েল নিয়মিত খাওয়ার জন্য উপকারী নয় উল্লেখ করে এই পুষ্টিবিদ
বলেন, রান্নায় নিয়মিত ব্যবহারের জন্য সানফ্লাওয়ার অয়েল ভালো, যদি সেটি
খাঁটি হয়।  


ক্যালরির বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. সামিরা বলেন, ‘ক্যালরির দিক থেকে
মোটামুটি সব তেল প্রায় সমান। তেল যেহেতু ফ্যাটের অধীন, এক গ্রাম ফ্যাট থেকে
৯ ক্যালরি পাওয়া যায়। ফলে তেলের ক্ষেত্রে ক্যালরির ডিসটেন্স কিন্তু বেশি
হচ্ছে না। আমাদের দেহে দুই ধরনের ফ্যাট রয়েছে- স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও
আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট। এখন সয়াবিন তেলের চেয়ে সরিষার তেল তুলনামূলক ভালো,
অলিভ অয়েল আরো ভালো। কিন্তু তেল ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। অনেকে মনে করেন,
অলিভ অয়েল দিয়ে রান্না করলে বেশি পুষ্টি হবে। কিন্তু যখন আপনি অলিভ অয়েল
বেশি তাপে রান্না করবেন গুণগত মান নষ্ট হবে। অলিভ অয়েল দিয়ে আপনি হালকা ডিম
ভাজতে পারেন কিন্তু খুব বেশি তাপে রান্না করলে কাঙ্ক্ষিত পুষ্টিগুণ পাবেন
না।’







আমাদের দেশে তেল-মসলা বেশি খাওয়া হয়। এ জন্য সয়াবিন তেল ব্যবহার করা হয়।
চাইলে সরিষাবাটা তেল দিয়েও রান্না করা যায়। সরিষার তেল সয়াবিন তেলের চেয়ে
বরং পরিমাণে কম লাগে। এতে শরীরে ক্যালরি বাড়ার আশঙ্কাও কমে যায়। জানান এই
পুষ্টিবিদ। 


সরিষার তেলের ১২ টি ভিন্ন ব্যবহার

 মাছ ভাজা, নানা রকম ভর্তা, মুড়ি মাখা, আচারের মতো মুখরোচক খাবারে সরিষার
তেল যোগ করে আলাদা স্বাদ। বাঙালির রান্নায় সরিষার তেল না থাকলে যেন জমে না।
চলুন জেনে নেই সরিষার তেলের ১২ টি ভিন্ন ব্যবহার :



১. এর আছে ঝাঁজালো অনন্য স্বাদ।



২. এক চা-চামচ সরিষার তেলে আছে ১২৬ ক্যালরি।



৩. সরিষার তেল অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদানসমৃদ্ধ।
ত্বকের ওপর এই তেল দিয়ে ম্যাসাজ করলে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন দূর হয়।



৪. পোকামাকড় সরিষার তেল সহ্য করতে পারে না। এই তেল ব্যবহার করে পোকামাকড় থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।





৫. সরিষার তেলে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড (অলিক ও লিনোলিক অ্যাসিড) চুল
পুনরুজ্জীবিত করে তোলে। চুলের গোড়া মজবুত করে এবং মাথার ত্বকে রক্ত
সঞ্চালন বৃদ্ধি করে।




৬. সরিষার তেল শরীর উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরের ঘাম বের হওয়ার
গ্রন্থিগুলো পরিষ্কার ও সচল রাখে। ফলে শরীরের বর্জ্য পদার্থগুলো বের হয়ে
যায়।



৭. এটি উষ্ণ তেল হিসেবে শীতের সময় শরীরে ম্যাসাজ করা যায়।



৮. এর উষ্ণতার গুণের কারণে আয়ুর্বেদশাস্ত্রে একে কফ ও কাশি প্রতিরোধক হিসেবে বলা হয়েছে।



৯. বাতের ব্যথা দূর করতে সরিষার তেলের ব্যবহার দেখা যায়।



১০. দাঁতের মাড়ির বিভিন্ন রোগ দূর করতে লবণ ও সরিষার তেল ব্যবহার করা হয়।



১১. সরিষার তেলের ব্যবহারে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে।



১২. সরিষার তেল আর হলুদ ফেসপ্যাক হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এতে ত্বকের খসখসে ভাব দূর হয় এবং শুষ্ক চামড়া ঝরে পড়ে।

রান্নায় সরিষার তেলের উপকারিতা

 যেসব তেল একই সঙ্গে রান্না ও
চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে সরিষার তেল অন্যতম। এ তেলের সুগন্ধ
রান্নার স্বাদ বাড়ায়। এতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট শরীরের নানা উপকার করে।
এক সময় রান্নার জন্য এ তেল প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এখন তা সীমিত
রান্নায় ব্যবহৃত হয়। আয়ুর্বেদ চিকিৎসা বলা হয়, রান্নায় নিয়মিত সরিষার তেল
ব্যবহার করলে দারুণ সব উপকার পাওয়া যায়। যেমন-

১. গোটা বিশ্বে হৃদরোগজনিত জটিলতায় সবচেয়ে
বেশি মানুষ মারা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, সরিষার তেলে থাকা মনোস্যাচুরেটেড
ফ্যাটি অ্যাসিড কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। সেই সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।


২. গবেষণায় দেখা গেছে, সরিষার তেলে থাকা
ওমেগা থ্রি পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। এ
ছাড়া এ তেলে তৈরি রান্না খেলে শতকরা ৫০ ভাগ টিউমারের আশঙ্কা কমে যায়।


৩. সরিষার তেলে থাকা অ্যালিল আইসোথিয়োকানেট উপাদান মূত্রাশয়ে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা ৩৪ ভাগ কমিয়ে দেয়।


৪. সরিষার তেলে থাকা অ্যান্টিবমাইক্রোবিয়াল উপাদান হজমশক্তি উন্নত করে। সেই সঙ্গে দাঁতের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।


৫. প্রদাহজনিত সমস্যা কমাতে সরিষার তেলের জুড়ি নেই।



৬. সরিষার তেলে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কম থাকায় এটি ওজন কমাতেও দারুণ ভূমিকা রাখে।



এই শীতে ত্বককে ভালো রাখতে সরিষার তেল

শীতকালে শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বক শুষ্ক ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তাই
ত্বকের বিশেষ যত্ন নেওয়ার প্রয়োজন হয়। শুষ্ক ও প্রাণহীন ত্বককে
নরম-উজ্জ্বল করতে সরিষার তেল ব্যবহার করতে পারেন। মুখে সরিষার তেল দিয়
মালিশ করলে ত্বকের অনেক উপকার হয়। সরিষার তেলে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ
রয়েছে, যা ত্বকের অনেক সমস্যা দূর করে। সরিষার তেল ব্যবহার করে ত্বকের
দাগও কমে। তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক, ত্বকের যত্নে সরিষার তেলের উপকারিতা।













ত্বকের দাগ দূর করে সরিষা তেল শীতকালে ত্বকের যত্নে সরিষার তেল
খুবই কার্যকর বলে মনে করা হয়। কালো দাগ দূর করতে এক চামচ বেসন নিয়ে তাতে
দুই চামচ দই মিশিয়ে নিন। এরপর এই মিশ্রণে আধা চা চামচ সরিষার তেল দিন। ঘরে
তৈরি এই ফেসপ্যাকটি মুখে লাগান। ১৫ মিনিট পর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ
পরিষ্কার করুন। সপ্তাহে একবার ঘরে তৈরি এই ফেস মাস্কটি ব্যবহার করুন। এই
ফেসপ্যাক ব্যবহারে মুখের কালো দাগ দূর হবে, পাশাপাশি ত্বক কোমল ও উজ্জ্বল
হবে।


ফাইন লাইনস-এর জন্য সরিষার তেল শীতে ত্বকের যত্ন এবং ফাইন লাইনস কমাতে
সরিষার তেল খুবই কার্যকর বলে মনে করা হয়। বলিরেখা কমাতে হালকা গরম তেল
নিয়ে মুখে ম্যাসাজ করুন। ম্যাসাজ করার পরে, একটি সুতির কাপড় ভিজিয়ে
অতিরিক্ত তেল মুছে ফেলুন। ফল পাবেন হাতেনাতে!


সরিষার তেল শীতকালে রোদে বসার কারণে ত্বকে ট্যান পড়ে যায়। ত্বকের
সুরক্ষায় রাসায়নিক সানস্ক্রিনের পরিবর্তে সরিষার তেল ব্যবহার করতে পারেন।
সরিষার তেলে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-এজিং বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা
ত্বকের ট্যান দূর করতে খুবই সহায়ক। ত্বকের ট্যান দূর করতে এক চামচ সরিষার
তেল নিন। এই তেলে লেবুর রস মিশিয়ে নিন। লেবুর রসে অ্যালার্জি থাকলে
ব্যবহার করবেন না, তার পরিবর্তে দই ব্যবহার করতে পারেন। এটি দিয়ে মুখে
ম্যাসাজ করুন, ১০ মিনিট পর মুখ ধুয়ে ফেলুন